শামীম হামিদ, চট্টগ্রাম অফিস
গত বৃহস্পতিবার সাগরিকায় টেস্ট অভিষেক হওয়ার সময় মোহাম্মদ নাঈম হাসানের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর ৩৫৫ দিন। ওই সময় হয়তো এই তরুণ ধারণাই করতে পারেননি কত বিশাল এক প্রাপ্তি তার জন্য অপেক্ষা করছে। বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ বোলার হিসেবে অভিষেক টেস্টে ৫ উইকেট শিকার করে রেকর্ড বুকে নিজের নাম তুলে ফেলেছেন নাঈম।
চট্টগ্রামবাসীর জন্য গর্বের কথা হলো, এই নাঈম তাদের ঘরের ছেলে। চট্টগ্রামেরই ক্রীড়া কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমের ছেলে এই কিশোর।
ছেলের কৃতিত্বে গর্বিত পিতা বলেন, ‘পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় ওকে ক্রিকেট খেলার জন্য পাঠাই। ক্রিকেটই ছিল ওর ধ্যানজ্ঞান। ক্রিকেট না খেললে হয়তো পড়াশোনায় আরো ভালো কিছু করতে পারত। কিন্তু আমরাও চাইনি যে ছেলে শুধু বইয়ের পোকা হয়েই জীবন কাটাবে। বিশেষ করে ওর মায়ের খুব ইচ্ছা ছিল ছেলে বড় ক্রিকেটার হবে। ওর মা সারাদিন ছেলের পেছনে লেগে থাকত। মায়ের জন্যই আজ সে এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে।’
২০০০ সালের ২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট ফরিদের পাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহবুবুল আলম ও মমতাজ বেগমের ঘরে জন্ম নেন নাঈম হাসান। বাবা ছিলেন ফুটবলার। খেলতেন স্থানীয় প্রথম বিভাগের দল রাইজিং স্টার, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন দলে। ফুটবলের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চান্দগাঁও ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন টানা ১০ বছর।
বাবার মতো ফুটবলার হতে পারতেন নাঈম হাসান। কিন্তু বাবাই সেটা চাননি। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে ক্রিকেটার হবে। নান্নু, নোবেল, আকরাম খান ও তামিম ইকবালের মতো চট্টগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবে। বাবার ইচ্ছায় সম্মতি ছিল মা মমতাজ বেগমেরও। বাবা মায়ের অনুপ্রেরণায় শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটকেই জীবনের ধ্যানজ্ঞান হিসেবে বেছে নেন চট্টগ্রামের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র নাঈম।
ক্রিকেটে নাঈমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু চট্টগ্রাম ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার মাধ্যমে। ২০১৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা দলের হয়ে আসরে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নাঈমের অভিষেক ঘটে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের ম্যাচ দিয়ে। বিপিএলে তার দল চিটাগং ভাইকিংস।
নাঈমের টেস্ট অভিষেক হতে পারত গত জানুয়ারিতেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের জন্য বাংলাদেশ দলে ডাক পান নাঈম। ওই সময় তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার জন্য নিউজিল্যান্ড অবস্থান করছিলেন। নাঈমের কাছে যখন বাংলাদেশ দলে ডাক পাওয়ার খবরটা পৌঁছায় তখন তার দল ভারতের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে যুব বিশ্বকাপকে বিদায় জানিয়ে দেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তবে চমক জাগিয়েও তিনি শেষ পর্যন্ত সেরা একাদশে খেলার সুযোগ পাননি।
২০১১ সালে ১৮ বছর ৬ মাস ৯ দিন বয়সে নিজের অভিষেকে ৭৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স। এতদিন ধরে এটিই ছিল সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকে পাঁচ কিংবা তার বেশি উইকেট নেওয়ার রেকর্ড। সেটাকে টপকে গেলেন কাল নাঈম।
নাঈমসহ এ পর্যন্ত মাত্র সাতজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল। অন্য ছয়জন হলেন মোহাম্মদ শরীফ, তালহা জুবায়ের, মোহাম্মদ আশরাফুল, এনামুল হক জুনিয়র, নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম।
অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ ৫ উইকেট শিকারি
বোলার বয়স বোলিং সাল
নাঈম হাসান ১৭ বছর ১১ মাস ২০ দিন ৫-৬১ ২০১৮
প্যাট কামিন্স ১৮ বছর ৬ মাস ৯ দিন ৬-৭৯ ২০১১
শহীদ আফ্রিদি ১৮ বছর ৭ মাস ২১ দিন ৫-৫২ ১৯৯৮
শহীদ নাজির ১৮ বছর ১০ মাস ১৩ দিন ৫-৫৩ ১৯৯৬
মেহেদি হাসান ১৮ বছর ১১ মাস ২৬ দিন ৬-৮০ ২০১৬
স্কো র কা র্ড
বাংলাদেশ-১ম ইনিংস
ব্যাটসম্যান রান বল চার ছয়
নাঈম ক হোপ ব ওয়ারিকান ২৬ ৭৪ ২ ০
তাইজুল অপরাজিত ৩৯ ৬৮ ৪ ১
মুস্তাফিজ এলবিডব্লু ওয়ারিকান ০ ৩ ০ ০
অতিরিক্ত (বা-৩, লেবা-৫, নো-৪)১২
মোট: ৯২.৪ ওভারে ৩২৪/১০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং:
রোচ ১৭-২-৬৩-১, গ্যাব্রিয়েল ২০-৩-৭০-৪, চেজ ১১-০-৪২-০, ওয়ারিকান ২১.৪-৬-৬২-৪, বিশু ১৫-০-৬০-১, ব্রাথহোয়াইট ৮-১-১৯-০
ওয়েস্ট ইন্ডিজ-১ম ইনিংস
ব্রাথহোয়াইট ক সৌম্য ব সাকিব ১৩ ৪৭ ২ ০
পাওয়েল এলবিডব্লু তাইজুল ১৪ ২০ ২ ০
হোপ ব সাকিব ১ ৪ ০ ০
অ্যাম্ব্রিস এলবিডব্লু নাঈম ১৯ ৬৯ ০ ০
চেজ ক ইমরুল ব নাঈম ৩১ ৪৩ ৪ ০
হেটমেয়ার ক মুশফিক ব মিরাজ ৬৩ ৪৭ ৫ ৪
ডওরিচ অপরাজিত ৬৩ ১০১ ২ ৩
বিশু এলবিডব্লু নাঈম ৭ ১৫ ০ ০
রোচ এলবিডব্লু নাঈম ২ ৩ ০ ০
ওয়ারিকান ব নাঈম ১২ ২৬ ০ ০
গ্যাব্রিয়েল ক মাহমুদউল্লাহ ব সাকিব৬ ১১ ০ ১
অতিরিক্ত (বা-৬, লেবা-২, নো-২, পেন-৫) ১৫
মোট: ৬৪ ওভারে ২৪৬/১০
বাংলাদেশ বোলিং:
মুস্তাফিজ ২-১-৪-০, মিরাজ ১৫-০-৬৭-১, তাইজুল ২০-৩-৫১-১, সাকিব ১১-১-৪৩-৩, নাঈম ১৪-২-৬১-৫, মাহমুদউল্লাহ ২-০-৭-০
বাংলাদেশ-২য় ইনিংস
ইমরুল ব ওয়ারিকান ২ ৫ ০ ০
সৌম্য ক ব্রাথহোয়াইট ব চেজ ১১ ১০ ২ ০
মুমিনুল এলবিডব্লু চেজ ১২ ১১ ২ ০
মিঠুন ব বিশু ১৭ ৩৫ ১ ০
সাকিব ক গ্যাব্রিয়েল ব ওয়ারিকান ১ ২ ০ ০
মুশফিক ব্যাটিং ১১ ৩০ ০ ০
মিরাজ ব্যাটিং ০ ৯ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা-১) ১
মোট: ১৭ ওভারে ৫৫/৫
ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোলিং:
রোচ ১-০-১১-০, ওয়ারিকান ৮-০-২২-২, চেজ ৫-১-১৬-২, বিশু ৩-০-৫-১
