সম্পর্কের টানে হার মেনেছে কাঁটাতার

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৭, ২০:৪২
 
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে প্রতিবারের ন্যায় এবারও দুই বাংলার মিলন মেলা বসেছে।
 
বহুদিন পর আপনজনের দেখা পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন অনেকে। বিনিময় করেন মনের জমানো হাজারো কথা।
 
শনিবার ঠাকুরগাঁও হরিপুর ও রাণীশংকৈল উপজেলার জনগাঁ, বুজরুক, বেতনা, ডাবরী সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে দুই বাংলার এই মিলন মেলা বসে। ঠাকুরগাঁও ৩০বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর উদ্যোগে এ মিলন মেলার আয়োজন করা হয়।
 
এদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও হরিপুর উপজেলার ডাবরী সীমান্তের প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাংলাদেশ ও ভারতের হাজার হাজার মানুষ এই মিলন মেলায় অংশ নেয়।
IMG0
মিলন মেলাকে কেন্দ্র করে উভয় দেশের সীমান্তে পর্যাপ্ত বিজিবি ও বিএসএফ মোতায়েন করা হয়। কঠোর পাহারায় কাঁটা তারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে স্বজনদের একপলক দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামে। এই সময় আবেগে অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
 
ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী থেকে আসা ছত্রমোহন রায় (৭০) বলেন, 'আমার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে তিন মেয়েরই বিয়ে হয়েছে ভারতের চাউলহাটিতে। আজকে নববর্ষের দিনে সুযোগ হয়েছে তাই মেয়ে-জামাই আর নাতী-নাতনীদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। ওদের জন্য কিছু কাপড় আর খাবার নিয়ে এসেছি।'
 
হরিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, 'হরিপুর উপজেলার অধিকাংশ এলাকা পাকিস্তান-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। এ কারণে দেশ বিভাগের পর আত্মীয় স্বজনেরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর এদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনা। অপেক্ষা করে থাকে এই দিনের।'
 
ইত্তেফাক/জামান