আনন্দ-উৎসব ও সমারোহের মধ্যদিয়ে শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বাংলা নববর্ষ ১৪২৪ উদযাপন করা হয়। পহেলা বৈশাখ ইসলামাবাদে কর্ম দিবস থাকায় শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশি, শিক্ষার্থী এবং মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় যোগ দেন। বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিশু সাহিত্যিক,সাংবাদিক ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারিক আহসান অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত বক্তব্যে তিনি বাংলা সনের উৎপত্তি ও নববর্ষ পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষবরণ অনুষ্ঠান এখন বাঙ্গালীর সবচেয়ে বড় ও সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের নতুন বছরের অঙ্গিকার হবে সন্ত্রাস,জঙ্গিবাদ এবং গোঁড়ামি প্রতিহত করে দেশকে শান্তি,সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বিগত বছরের সকল দুঃখ-গ্লানি মুছে দিয়ে জাতি,ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি এবং একতা প্রতিষ্ঠায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে হাইকমিশনার অভিমত প্রকাশ করেন।
সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় শাহরিয়ার কবির চমৎকারভাবে নববর্ষ পালনে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের উৎসাহ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এ থেকে প্রতীয়মান হয় বিদেশে থেকেও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি মমতা ও ভালোবাসা কত গভীর। তিনি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যথাযথ অবদান রাখতে প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান।
IMG0
বর্ষবরণ উপলক্ষে চ্যান্সারি ভবন ও প্রাঙ্গণকে আলপনা এঁকে এবং রঙিন কাগজ, ফুল ও ব্যানার দিয়ে মনোরম সাজে সাজান হয়। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’- বৈশাখী সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি তুলে ধরে দূতাবাসের কর্মচারী ও বাংলাদেশি শিশুরা কয়েকটি মনোমুগ্ধকর নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করে।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুরুতে অতিথিদের বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা , কদমা, বাতাসা, জিলাপি, গজা, পেঁয়াজু ও ঝালমুড়ি পরিবেশন করা হয়। এছাড়া, অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের ভাত-মাছ,গোস্ত,মুড়িঘন্টসহ হরেক পদের ভর্তা ও অন্যান্য দেশীয় খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। প্রেস রিলিজ।
ইত্তেফাক/সাব্বির
