ওসমানীনগরের গাভুরটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষক ঘাটতি, শ্রেণিকক্ষ সংকট, স্যানিটেশনসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত রয়েছে। শিক্ষকরা বারান্দায় বসে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। নেই শিক্ষকের কোনো অফিস কক্ষ। তিনটি কক্ষে গাদাগাদি করে দেয়া হচ্ছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। প্রধান শিক্ষকের পদটিও রয়েছে শূন্য।
প্রাচীন এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে শিশু শ্রেণির জন্য আলাদা কক্ষ না থাকায় একতলা বিল্ডিংয়ের সিঁড়ির উপরে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে বসে ক্লাস করতে হচ্ছে। এ সব শিশু শিক্ষার্থী সিঁড়িতে ওঠা-নামা করতে গিয়ে বা ছুটির সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এ দিকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো সরকারি বা বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় না থাকায় পঞ্চম শ্রেণি পাস করার পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ঝরে পড়ছে। ফলে বিদ্যালয়টিকে দ্রুত অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জোর দাবি উঠেছে।
এলাকার এক শিক্ষানুরাগী পরিবারের উদ্যোগে ১৯০৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৩ সালে এটি সরকারিকরণ করা হয়। ২০০৪ সালে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে বিদ্যালয়ের মূল ভবন ভেঙে গেলে খোলা আকাশের নিচে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা চালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পিডিপি’র অর্থায়নে ২০১২ সালের শেষের দিকে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। মাত্র তিনটি কক্ষে গাদাগাদি করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করলেও বিদ্যালয়ের অন্যান্য সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিতা রানী ধর জানান, বিদ্যালয়ে শিশুদের খেলার জন্য কোনো মাঠ নেই। শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে একসঙ্গে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া শিশু শ্রেণির পাঠদান বাধ্য হয়ে সিঁড়ির উপর করাতে হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপ-পরিচালক তাহমিনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষ সংকট দূরীকরণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। খোঁজ নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
