সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে সরকারি খাল দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল স্থাপনা নির্মাণের কাজ করছে। ফলে পাহাড় থেকে পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে বর্ষায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এভাবে প্রকাশ্যে সরকারি খাল দখল হয়ে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৭ নং সোনাইছড়ি ইউনিয়নের কদমরসুল কেশবপুর মৌজার খাগুড়িয়া খালটির (ছড়া) মধ্য দিয়ে পাহাড়ি ঝর্ণার পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরে। এতে এলাকার কৃষি কাজ যেমন সমৃদ্ধ হয় তেমনি এই পানি মত্স্য চাষসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন এলাকাবাসী। সুদীর্ঘকাল খালটি জনকল্যাণে ব্যবহার হয়ে আসলেও সম্প্রতি এই খাল দখলে নেমেছে প্রভাবশালী মহলটি। তারা প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে ছড়াটির উভয় পাশের জমি দখল করে ছড়ার ভেতরেই পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন। এরই মধ্যে খালের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ের বেশিরভাগ অংশ পাকা স্থাপনার নিচে চলে যাবার উপক্রম হয়েছে।
স্থাপনা নির্মাণের দায়িত্বে থাকা লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খালের দুই পাড়ের জায়গার মালিক ভাটিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ ইসহাক। তিনি খালের দুই পাশ একত্রিত করে একটি কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনায় এই ব্রিজ নির্মাণ করছেন। কিন্তু সরকারি খাল কেন দখল করা হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি তারা।
এ বিষয়ে কেশবপুরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী মোঃ নাজিম উদ্দিন বলেন, এই খাল দিয়ে সারাবছর পাহাড়ি ঝর্ণার পানি নেমে সাগরের দিকে যায়। এতে এলাকার মানুষ বন্যা কবলিত হওয়া থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে প্রভাবশালী মহল যার যেদিকে খুশি খাল দখলে মেতে উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই এলাকার ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলাম মেম্বার ইত্তেফাক সংবাদদাতাকে বলেন, ছড়ার মধ্যে একটি ব্রিজ তৈরি হচ্ছে। তবে মোঃ ইসহাক এ বিষয়ে আমাদেরকে কিছুই জানাননি। বিষয়টি নিয়ে এসি ল্যান্ডের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি। এদিকে ছড়া দখলের কথা অবগত নন বলে জানান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রুহুল আমিন। তবে তিনি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।
অন্যদিকে সরকারি খাল (ছড়া) দখলে অভিযুক্ত মোঃ ইসহাকের মোবাইলে গত রাত ১০টার দিকে বার বার ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
