নাসিরনগরে শুঁটকি মেলায় চালু আছে বিনিময় প্রথা

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৭, ০১:০৫

যুগ যুগ ধরে নাসিরনগরে চলে আসছে ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো শনিবারও কুলিকুন্ডা গ্রামে জমে ওঠে দিনব্যাপী এ শুঁটকি মেলা।

স্থানীয় জনগণের ভাষ্য অনুযায়ী, ২শ বছরেরও অধিক সময় ধরে এ মেলা বসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শুঁটকি ব্যবসায়ী ছাড়াও বাহারি শুঁটকির আকর্ষণে দূর-দূরান্ত থেকে ভোজন রসিকরা মেলায় আসেন শুঁটকি কিনতে। পছন্দের শুঁটকি কিনে তারা তৃপ্ত হন। ২ শতাধিক নানা জাতের শুঁটকির পসরা নিয়ে বসেছেন দোকানিরা। এসব পসরায় রয়েছে বোয়াল, গজার, শোল, বাইন, ছুড়ি, লইট্টা, পুঁটি ও টেংরাসহ দেশি মাছের শুঁটকি। এমন কোনো জাতের শুঁটকি নেই যা পাওয়া যায় না। তবে দেশি মাছের শুঁটকির প্রাধান্যই বেশি। এ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকেও আমদানি করা বিভিন্ন প্রজাতির শুঁটকি ওঠে। মেলায় নাসিরনগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা শুঁটকি নিয়ে আসেন। সামুদ্রিক অনেক বিরল জাতের মাছের শুঁটকি ছাড়াও ইলিশ ও কার্প জাতীয় বিভিন্ন মাছের ডিমের শুঁটকি উঠেছে এই মেলায়।  এদিকে শুঁটকি ছাড়াও মেলার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘বিনিময় প্রথা’ অর্থাত্ পণ্যের বিনিময়ে পণ্য। ভোরে এ মেলা বসার পর সকাল ১০টা পর্যন্ত বিনিময়ের মাধ্যমে বিক্রি চলে।

কুলিকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দা প্রাক্তন শিক্ষক দৌলত আহমেদ মোল্লা জানান, শত বছরের বেশি সময় ধরে নিয়মিতভাবে এ মেলা বসছে। এখনো বহু পুরনো প্রথা প্রচলন থাকায় আমরা ধারণা করছি—এ মেলা আদিম কালের। আলু, ডাল, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুনসহ এলাকার কৃষকরা তাদের উত্পাদিত নানা পণ্যের বিনিময়ে শুঁটকিসহ বিভিন্ন পণ্য কেনেন।

এ ছাড়াও এখানে দিনব্যাপী চলে আরেকটি মেলা। এখানে বিক্রি হয় মৃত্ শিল্পীদের হাতের তৈরি মাটির হাঁড়ি ও তৈজসপত্র।

ইত্তেফাক/নূহু