দিনে চাকরি, রাতে ভ্যানচালক

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১১:৪১
 
আবদুর রশীদ একজন চাকরিজীবী। একটি মাধ্যমিক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পিয়ন)। দিনে কর্ম ব্যস্ততা শেষে মানুষ যখন রাতে ক্লান্ত দেহে ঘুমাতে যান ঠিক তখনই দ্বিতীয় বারের মতো কর্ম ব্যস্ততা শুরু হয় আবদুর রশীদের। পরিবারের সাত সদস্যের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি আবদুর রশীদ সন্ধ্যার পর একটি অটোভ্যান নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতেই তার এই প্রাণপণ চেষ্টা। নইলে যে পরিবারের লোকজনকে উপোষ থাকতে হবে!
 
এভাবেই চলছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কচুয়া গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আবদুর রশীদের জীবনের সাইকেল। আবদুর রশীদ একই গ্রামের কচুয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (পিয়ন)। সম্প্রতি তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। প্রায় তিন দশক তার এই চাকরি জীবন। স্বল্প বেতনে পরিবারের সাত সদস্যের চাহিদা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় বাধ্য হয়েই ভ্যানগাড়ীর হাতল ধরা। দিনে স্কুলেই চাকরির কাজ। কৃষি কাজে রাতে কেউ শ্রম কিনবে না। তাই রাতে ভ্যান চালাই। ভ্যানটিও আবার ঋণ করে কেনা। আগে ভাড়ায় ভ্যান চালাতাম। ভ্যান চালাচ্ছি ১৫/১৬ বছর ধরে। নিজের জমিজমা বলতে বাড়ি ভিটে ছাড়া কিছুই নেই। স্ত্রী ও পাঁচ কন্যা সন্তান নিয়ে সাত সদস্যের পরিবার। অর্থের অভাবে মেয়েদের পড়ালেখা করাতে না পেরে কনিষ্ঠ সন্তান আমিনাকে (৩) দত্তক দিয়েছেন। চতুর্থ মেয়ে মিম (৭) স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। দ্বিতীয় মেয়ে হেনা (১২) ও তৃতীয় মেয়ে সাথী (১০) অর্থের অভাবে পড়ালেখা করাতে না পারায় স্কুলে না গিয়ে বাড়িতেই আছে। বড় মেয়ে শিখা (১৫) এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ভ্যান চালক আবদুর রশীদের মানবেতর জীবনযাপন। কোনো স্বচ্ছ পারিবারিক জীবন তার নেই। স্বপ্নহীন এই মানুষের কাছে তাই কোনো উন্নত জীবনের ভাবনা ধরা দেয় না। নিত্য নিষ্ঠুরতার মাঝেই তার বসবাস। আবদুর রশীদ দিনে পিয়নের চাকরি শেষ করে পরিবারে সচ্ছলতা আনতে প্রতিরাতেই ভ্যানগাড়ীটি নিয়ে বের হন। পরদিন সকালে আবার স্কুলের চাকরির জন্য দৌড়ানো। এভাবেই চলছে একটি পরিবারের চাকা।