বাল্যবিবাহের চেষ্টা বাবার, অভিমানী কিশোরীর আত্মহত্যা!

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৭, ১২:৫৯
 
লেখাপড়ায় ভালো শান্তশিষ্ট মেয়ে মার্জিয়া চায়নি মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে। তাই বাবার উপর অভিমান করে আত্মহত্যার মাধ্যমে ঠেকালো বাল্যবিবাহ! এমনই এক অভিযোগ পাওয়া গেছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর গ্রামে।
 
জোর করে বিয়ে দিতে চাওয়ায় মার্জিয়া সুলতানা নামে নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের। সে উপজেলার দেবী শাউল গ্রামের আমজাদ হোসেনের মেয়ে। রায়কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিল।
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মার্জিয়ার বাবা আমজাদ হোসেন মেয়েকে বিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। কিন্তু বিয়েতে মার্জিয়ার মত ছিলনা। গতকাল সোমবার মার্জিয়াকে দেখতে শান্তাহার থেকে ছেলে পক্ষ বাড়িতে আসার কথা ছিল। এমন সংবাদে বাবার সাথে রাগ করে কথা বলে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয় মার্জিয়া। একটু পরে পরিবারের লোকজন মার্জিয়ার নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত লাশ বের করে পুলিশে খবর দেয়। এলাকার লোকজন বলছে, জোর করে বিয়ে দিতে চাওয়ায় মার্জিয়া আত্নহত্যা করেছে।
 
মাজিয়ার আত্নহত্যার খবর পেয়ে সহপাঠী ছাত্র-ছাত্রীরা বাড়িতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়ে। মার্জিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ যেন না নিয়ে যেতে পারে এজন্য লাশ ঘিরে রাখে তারা। পরে স্কুলশিক্ষক ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহযোগিতায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
 
রায়কালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন মণ্ডল বলেন, মার্জিয়া সুলতানা নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। সে মেধাবী ও খুব শান্ত মেয়েছিল। দুপুরে জানতে পারি সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
 

আক্কেলপুর থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, থানা থেকে পুলিশ যাওয়ার আগেই পরিবারের লোকজন লাশ নামিয়ে ঘর থেকে বাইরে রাখে। এ ঘটনায় থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে।