মেহেদী জঙ্গিবাদে জড়িয়েছিল না অপহৃত হয়েছিল?

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৭, ২০:১৪
 
ঢাকার বনানী থেকে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ চার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফিরে আসা মেহেদী হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বরিশালের বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।
 
জিজ্ঞাসাবাদে এতদিন কোথায়, কীভাবে ছিলো কিছুই বলতে পারছেন না মেহেদী হাসান। জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িয়েছিলো নাকি মেহেদীকে অপহরণ করা হয়েছিলো এনিয়ে প্রশাসন থেকে শুরু করে সর্বত্র নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
 
বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেহেদী হাসান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে সুস্থ করে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মেহেদী হাসান (২৫) বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদারের পুত্র ও সরকারি বিএম কলেজের মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী।
 
বাবুগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস ছালাম জানান, মেহেদী এতদিন কোথায় ছিলো আমরা তা জানার চেষ্টা করছি। তবে মেহেদী সে রকম কিছুই বলতে পারছেনা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মেহেদী বলছে, এতদিন তার চেতনা ছিলোনা। তাই সে কোথায় কীভাবে ছিলো কিছুই বলতে পারছে না। শুধু বলেছে, মঙ্গলবার ভোরে তাকে গাড়িতে করে সড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেহেদী হাসান জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর তাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। তবে মেহেদীকে দুর্বল মনে হচ্ছে। তার কথা বার বার জড়িয়ে যাচ্ছে। ওসি আরও জানান, শারীরিকভাবে অসুস্থ মেহেদী দীর্ঘদিন ধরে তার অবস্থান বা অপহরণকারীদের বিষয়ে কোন তথ্যই দিতে পারছেনা।
 
পুলিশের বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে মেহেদী সাভারের নবীনগর এলাকায় রয়েছেন বলে নিজে জানতে পারেন।
 সে জানায়, মঙ্গলবার ভোরে সাভারের নবীনগর এলাকায় তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। তার চেতনা ফিরে আসার পর সে তার পকেটে কিছু টাকাও পায়। পরবর্তীতে একটি গাড়িতে করে প্রথমে সে নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সেখান থেকে সকাল নয়টার বাস ধরে সরাসরি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর গ্রামের নিজ বাড়িতে ফিরে আসে।
 
মেহেদীর পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৯ নভেম্বর মেহেদীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেনকে ডাক্তার দেখাতে ঢাকার রায়েরবাজারের বোনের বাসায় যায়। ২৯ নভেম্বর বাবা বাড়ি ফিরে আসলেও মেহেদী একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকুরীর ইন্টার্ভিউয়ের জন্য ঢাকায় থেকে যায়। ১ ডিসেম্বর বিকেলে ল্যাপটপ সারানোর কথা বলে মেহেদী তার বোনের বাসা থেকে তাদের গ্রামের বাড়ির প্রতিবেশী বন্ধু সুজনের বনানীর অফিসে যায়। এরপর থেকেই মেহেদীসহ চার যুবক রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পর মেহেদীর চাচা মাহাবুব হোসেন ওই বছরের ১ ডিসেম্বর বনানী থানায় নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সুজন সহ অপর তিন তরুণ নিখোঁজ হওয়ার বিষয় আরো একটি জিডি করা হয় বনানী থানায়।
 
ইত্তেফাক/জামান