গাড়ি পার্কিংয়ের ঝামেলা মেটাতে রাফাতের পার্কিং কই

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ১৯:৫৫

রাস্তায় অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যানজট তৈরির পাশাপাশি জরিমানাও গুনতে হয় চালকদের। সমস্যার সমাধান দেবে ‘পার্কিং কই’। অ্যাপটিতে নিবন্ধন করলেই আশপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গাড়ি পার্কিংয়ের উপযোগী জায়গার সন্ধান পাওয়া যাবে। নির্ধারিত পার্কিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বাসা বা অফিসের গ্যারেজেও গাড়ি রাখার সুযোগ মিলবে। এ নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজনে কথা বলেছেন ‘পার্কিং কই’-এর প্রতিষ্ঠাতা রাফাত রহমান। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

আরেফিন দীপু

আপনার বেড়ে ওঠা

চট্টগ্রামে আমার বেড়ে উঠা, ওখানেই আমার স্কুল ও কলেজ। কলেজ শেষে ২০০৭ সালে আমি আমেরিকাতে যাই। তারপর সেখানেই ১২ বছর বাস করি আমি এবং ইউনিভার্সিটির পড়াশোনা শেষ করি। 

ক্যারিয়ার শুরু যেভাবে 

ইউনিভার্সিটি পড়াশোনা শেষে কর্মজীবন শুরু করি ডিজনিতে কনফিগারেশন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে এবং গত ১২ বছর আমি ফরচুন ৫০০ কোম্পানি সহ ৮/১০টি কোম্পানিতে কাজ করি। যেমন :ইন্টেল, এইচপি, জেপিমর্গান ও ব্যাংক অফ আমেরিকা উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে কাজ করছি আমেরিকার সবচেয়ে বড় কার ইন্সু্যুরেন্স কোম্পানি গাইকোতে, সেই সাথে আমি সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি বাংলাদেশসহ এশিয়ার সবচেয়ে বড় পার্কিং প্লাটফর্ম ‘পার্কিং কই’-তে।

‘পার্কিং কই’-এর মতো সৃজনশীল উদ্যোগ কবে প্রথম মাথায় এলো

‘পার্কিং কই’-এর উদ্যোগ শুরু হয় খুব ইন্টারেস্টিংভাবে। গত ২ বছর ধরেই আমি ও বাংলাদেশে স্কুল কলেজের কিছু শিক্ষার্থীদের নিয়ে যে সব সমস্যা মানুষ প্রতিনিয়ত সম্মুখীন হয়, সেইগুলো সমাধান এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছিলাম। এরই মাঝে একদিন নিউইয়র্কে একটা কাজে গেলে সেখানে নিউইয়র্কের বাঙালি এলাকায় পার্কিং নিয়ে প্রচণ্ড সমস্যা হয় এবং তখনই আমি প্রথম রিয়েলাইজ করি যে এই পার্কিং সমস্যাটা এখন উন্নত বিশ্বের শহরগুলো নয়, বরং বাংলাদেশেও এটি বিদ্যামান। ২০১৭ সালে যখন বাংলাদেশে ট্যুরে যাই, তখন আমি একই সমস্যায় পড়ি এবং তখনই আমরা সিদ্ধান্ত নেই যে ‘পার্কিং কই’ এই প্রোজেক্টটি নিয়ে কাজ করব। 

বর্তমানে ‘পার্কিং কই’-এর অপারেশনস যেভাবে চলছে?

২০১৮ সালের ২৩ মার্চ অ্যাপটির লঞ্চিং করি এবং প্রথম সপ্তাহেই ৫ হাজার ডাউনলোড পায় এবং বাংলাদেশের ট্রাভেল এবং ট্রান্সপোর্টেশন বিভাগের টপ ওয়ানে চলে আসে। এরপরে আমরা জিপিও প্রি এক্সেলেটরে ট্রাই করি এবং জিপি তথা গ্রামীণফোন এক্সেলেটরে টপ ফাইভে যাই। সেখানে তিন মাস অতিবাহিত করি এবং আমরা আমাদের বিজনেস প্ল্যান, ভিশন, যেভাবে কাজ করবে ‘পাকিং কই’; তা নিয়ে আমরা ট্রেনিং পাই এবং কিছুটা সিট ফান্ডিংও পাই। এই সিট ফান্ডিং এবং ট্রেনিং নিয়েই আসলে এগিয়ে যেতে থাকি। তিন মাসে পরে সেপ্টেম্বরে আমরা গ্র্যাজুয়েট হয়ে বের হই। তারপরে আসলে আমাদের তেমন একটা পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ‘পার্কিং কই’ খুব ভালোই সাড়া ফেলেছে। একবছর আমরা অতিবাহিত করিছি। অ্যান্ড্রয়েট অ্যাপে আমরা অলরেডি ৫০ হাজার ডাউনলোড পেয়ে গেছি এবং আমাদের এখন প্রায় ১৭ হাজার অ্যাকটিভ কাস্টমার আছেন। যারা আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে পার্কিং করে থাকেন। ঢাকাতে ১০টির মতো হাবিং এবং চট্টগ্রামে ৫টির উপর হাবিং পার্কিং হয়ে থাকে। এখন আমরা ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং সিলেটে ‘পার্কিং কই’ করে আসছি। সিলেটে ‘পার্কিং কই’ ফ্রি কিন্তু ঢাকাতে এবং চট্টগ্রামে ফি দিতে হয়। বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানিগুলোর সাথে কাজ করছি। মাসিক কিস্তিতেও আমরা পার্কিং দিয়ে থাকি। ঘণ্টা ভিত্তিকও আমরা পার্কিং দিয়ে থাকি।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পার্কিং ব্যবস্থাপনা একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। কী কী প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন?

‘পার্কিং কই’ নিয়ে বলার মতো একটি কথা বলতে চাই যে, ‘পার্কিং কই’ কিভাবে কাজ করে? ‘পার্কিং কই’ হচ্ছে বাংলাদেমের সবচেয়ে বড় পার্কিং শেয়ারিং প্লাটফর্ম। এই প্লাটফর্মের মাধ্যমে একজন হোস্ট যিনি কিনা যার পার্কিং জায়গা খালি আছে, তিনি তার অব্যবহূত জায়গাটি আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া দিতে পারবেন এবং পার্কিং জায়গাটি যার প্রয়োজন তিনি আমাদের অ্যাপের মাধ্যমে এটি দেখে তারপর জায়গাটি ভাড়া নিতে পারবেন। এখানে একসাথে আমরা ২টি সমস্যা সমাধান করছি। ঢাকা সবচেয়ে ঘন জনবসতিপূর্ণ একটি এলাকা এবং এবছরই ঢাকা ট্রাফিক সমস্যায় পৃথিবীর প্রথম স্থানে রয়েছে। এবং এই সমস্যার ৩০%-৩৫% হয়ে থাকে অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে গাড়ি পার্কিং এর কারণে। আপনি রাস্তায় গেলে দেখবেন প্রতিটি রাস্তাজুড়েই অপরিকল্পিত পার্কিং করে আছে। এই সমস্যা সমাধানেই আমরা কাজ করছি।

নিজের ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা বলুন

প্রতি মাসে প্রায় ১০% থেকে ১৫% হারে আমাদের গ্রোথ চলছে। এটাকে আরও ভালো করব এই বছর এমনই আশা রাখি।