সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, তের হাজার পুলিশ সদস্য থানা কেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করেন। তাদের জন্য তো পুরো পুলিশ বাহিনীর দুর্নাম হতে পারে না। অনেক পুলিশ সদস্য আছেন যারা খুব কষ্ট করে জীবন-যাপন করেন। অনেকের আবার ৪/৫টা বাড়ি। দেশটা কি চোরের দেশ?’
এ সংক্রান্ত এক রিট মামলায় বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, এসপি চিঠি দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শ্যামনগর থানার ওসিকে বলেছেন। কিন্তু ওই ওসি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি অর্থাৎ জিডি বা মামলা নেয়নি। কেন মামলা নেয়নি সে বিষয়ে রুল জারি করে ওসির ব্যাখ্যা চাওয়া দরকার। আদালত বলেন, থানার ওসিরা সুবিধামত হলে মামলা নেন। অথচ দেখা যায় টাকা ছাড়া থানায় একটা জিডিও হয় না। আবার যেখানে সেখানে সালিশ বসান তারা। কিভাবে এটা সম্ভব, এত সাহস তারা কোথায় পায়?
পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) মোহাম্মদ সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ স্বর্ণালংকার লুট, হামলা, দরজা ভাঙার কোনো প্রমাণ পাননি। কিন্তু সীমানা প্রাচীর ভাঙ্গার প্রমাণ পেয়েছেন। এটা জানানোর পর আদালত বলেছে, যেহেতু পাঁচিল ভাঙা পেয়েছে আংশিক সত্যতা তো পাওয়া গেছে। তাহলে পুলিশ কেন মামলা নিবে না। তিনি বলেন, বাদীর পারিবারিক বিরোধ হওয়ায় ওসি সালিশের মাধ্যমে তা নিষ্পত্তির কথা বলেছিলেন। তখন আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশের কাজ তো এটা না। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মামলা নেওয়া। তদন্তে যদি ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ হয় তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। এএজি বলেন, জিডি বা মামলা নেয়নি ওসি। কিন্তু তারা একটি প্রতিবেদন পুলিশ সুপারের কাছে পাঠিয়েছে। হাইকোর্ট ওই প্রতিবেদনটি চেয়েছে। রবিবার সেটা দাখিল করা হবে। রিটকারীর আইনজীবী মো. শামসুল হক কাঞ্চন বলেন, এসপির নির্দেশের পরেও মামলা না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেছি।
আরও পড়ুন: ভাবির কোলে চড়ে এইচএসসি পরীক্ষায় সাথী খাতুন
রিট আবেদনে দেখা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামনগর থানার সোরা গ্রামের মো. ফজলুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায়। ইউসুফ আলীসহ কিছু লোক ওই ব্যক্তিকে মারধর করে নগদ দুই লাখ টাকা, ৮০ হাজার টাকা মূল্যের দু’টি স্বর্ণের চেইন ও ৫০ হাজার টাকার মালামাল লুট করে। যাওয়ার সময় বাড়ির সীমানা প্রাচীরও ভেঙ্গে ফেলে। এ ঘটনায় ফোন করে শ্যামনগর থানার ওসির সাহায্য চান। অন্য কাজে ব্যস্ত থাকায় পরে বিষয়টি দেখবেন বলে জানায় ওসি। এরপর ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চান। তখন ওই থানার একজন এএসআই ঘটনাস্থলে যান। ওই পুলিশ সদস্য সেখান থেকে ওসিকে ফোন দেন। এক পর্যায়ে ওসির সঙ্গে কথা বলার জন্য ফজলুরকে ফোন ধরিয়ে দেন এএসআই। ওসি তাকে ধমকের সুরে বলেন, উপর মহলে নালিস করিস, তোর মামলা হবে না। কোর্টে মামলা কর। তখন ফজলুর অনুনয় বিনয় করলে ওসি বলেন, কাল সকালে আবার তদন্ত হবে। পরদিন এসআই মনিরুজ্জামান ওই বাড়িতে গিয়ে তদন্ত করে বলেন, মামলা হবে না। চেয়ারম্যানের সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন। ওই ব্যক্তি সালিসের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের কাছে পুরো ঘটনা তুলে ধরে লিখিত অভিযোগ করেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থানার ওসিকে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে লিখিত নির্দেশ দেন এসপি। কিন্তু এরপরেও ব্যবস্থা না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট করেন ওই ব্যক্তি।
ইত্তেফাক/কেকে
