কেমন আছেন রানা প্লাজা ট্রাজেডির রেশমা

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০১৭, ১৮:৩৭
এক সময়ের আলোচিত আলোড়নকারী নাম রেশমা। যার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির করুণ কাহিনী। দীর্ঘ ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবন্ত উদ্ধার হওয়া রেশমা বিশ্ব মিডিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই ট্র্যাজেডির চার বছর পেরিয়ে ২৪ এপ্রিল। 
 
রেশমা পেয়েছেন চাকরি। পেতেছেন সংসার ও স্বামী আতাউর রহমান রাব্বী এবং কন্যা রেদওয়ানা ইসলাম রেবাকে নিয়ে তার সুখের সংসার। মা রেশমা বেগম ও বাবা আতাউর রহমান রাব্বীর নয়নের মণি কন্যা রেদওয়ানা ইসলাম রেবা। গত সোমবার রেবার বয়স ১ বছর দেড় মাস হয়েছে। তবে রেশমা সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কর্মস্থল রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে কাজে ব্যস্ত থাকে। 
 
আতাউর রহমান রাব্বী বলেন, এখন রেদওয়ানা ইসলাম রেবাই আমার ও রেশমার মধ্যমণি। তাকে ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন। মা যখন কাজে যায় তখন বাসার মধ্যবয়সী কাজের মহিলার সঙ্গেই তার দিন কাটে। আমি বাইরে থেকে এলেই আমার কোলে আসতে ছটপট করে। আর রেশমা হোটেল ওয়েস্টিনের কাজে এখন আগের চেয়ে বেশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। 
 
২০১২ সালের ২৪ এপ্রিল ঢাকার সাভারে অবস্থিত রানাপ্লাজায় এক ধ্বংস্তুপ থেকে ১৭ দিন পর বাংলাদেশের সেনা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৭ দিন পর জীবন্ত উদ্ধার হয়েছিল সেই আলোচিত রেশমা। 
 
জানা যায়, রেশমা ও আতাউর রহমান রাব্বী এখন গুলশানের একটি ভবনের ষষ্ঠ তলার দু’কক্ষের বাসায় থাকেন। ভাড়া ১১ হাজার টাকা। স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটছে তাদের। হোটেল ওয়েস্টিনে ভালো অঙ্কের বেতন পাচ্ছেন রেশমা। তিনি সকাল সাড়ে ৬টায় কাজে যোগ দেন। বিকাল সাড়ে তিনটায় ছুটির পর বাসায় ফেরেন। তারপর মেয়ে ও সংসারের কাজে সময় দেন। আর আতাউর রহমান রাব্বী একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে কাজ করেন। তাকে আবার নিয়মিত সময় দিতে হয় না। কর্মকর্তার ডাক পড়লেই ছুটে যেতে হয়। অনেকটা সময় মেয়েকে নিয়ে বাসায় কাটান। 
 
আতাউর রহমান রাব্বী ও রেশমার ভাইবোনরাও মাঝে মাঝে তাদের বাসায় আসেন। তবে রেশমার মা জোবেদা এসেছিলেন বেশ আগে। রেবার জন্মের পর অনুষ্ঠানে। যোগাযোগ প্রায়ই হয়। রেশমা মাঝে মাঝে মায়ের কাছে টাকাও পাঠান। ছোট ভাই সাদেক ঢাকায় রিক্সা চালান। বড় ভাই জাহিদুল ঘোড়াঘাটে ব্যবসা করেন। বড় বোন আসমা ঢাকায় থাকেন। একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বোন ফাতেমাও থাকেন ঘোড়াঘাটে। তার স্বামী কৃষি শ্রমিক। 
 
এদিকে রেশমার মা জোবেদা খাতুন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভাটা থেকে ইটের টুকরো কিনে এনে তা ভেঙে খোয়া বানিয়ে বিক্রি করতেন। তার অভাবের সংসারের অভাব এখনো মেটেনি। 
 
ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের কশিগাড়ী গ্রামের কৃষক মৃত আনসার আলী ও জোবেদার দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে রেশমা সবার ছোট। তার পিতার মৃত্যুর পর জোবেদা দ্বিতীয় বিয়ে করেন আরজন আলীকে। তিনি হোটেল শ্রমিক।  
 
রেশমা জানান, তাদের মূল বাড়ি চিল সিংড়া ইউনিয়নের মগলিশপুর গ্রামে। তার দাদা ইজ্জত আলি সরকার ছিলেন একজন জোদ্দার। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার পিতা কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে যান। এর পরেই তাদের নেমে আসে দুঃখের জীবন। 
 
রেশমার প্রথম স্বামী আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর তিনি সাভারে চলে আসেন। রানা প্লাজায় কাজ নেয়ার চারমাস পর ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ঘটে এই ব্যাপক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। এতে নির্মম মৃত্যু হয় ১ হাজার ১৩৮ জনের। আহত হন দু’সহস্রাধিক মানুষ। 
 
রানাপ্লাজা ট্র্যাজেডির থেকে বেঁচে আসা রেশমা হোটেল ওয়েস্টিনে চাকরি পান।  সেখানে আসা-যাওয়ায় পথে পরিচয় হয় আতাউর রহমান রাব্বীর সঙ্গে। এক পর্যায়ে তারা একে অপরকে পছন্দ করেন। বাড়ে ঘনিষ্ঠতা। পরে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আতাউর রহমান রাব্বীকে নিয়ে সংসার পাতেন রেশমা। পরের বছর ১০  মার্চ জন্ম নেয় রেবা।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি