ওসমানীনগরের উমরপুর ইউনিয়নের ভরাউট হাজী মো. সুলেমান খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্কুল মাঠে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান চলছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পুরোপুরিভাবেই বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এরই মাঝে রবিবার থেকে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা শুরু হলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল রাতে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে টিনের তৈরি স্কুল ঘরটি গুঁড়িয়ে মাটির সাথে মিশে যায়। ঝড়ে জরুরি ফাইলপত্র ও মূল্যবান আসবাবপত্রও নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি অবগত করে প্রধান শিক্ষিকা ফাতেহা খানম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি লিখিত আবেদন করেন। কিন্তু এ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোনো কর্মকর্তা ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলটি পরিদর্শন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবহেলিত হাওরাঞ্চলে এই স্কুলটিতে বর্তমানে ১৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অভিভাবকদের অধিকাংশই জেলে এবং দিনমজুর। এজন্য এলাকাবাসীর পক্ষে স্কুলটি তাত্ক্ষণিক মেরামত করা সম্ভব হয়ে উঠেনি। আশ-পাশে কোনো বসতি বা বাড়ি-ঘর না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায়ও স্কুলটি পরিচালনা করা যাচ্ছে না। সড়ক যোগাযোগ না থাকায় নানা দুর্যোগ ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে বছরের অধিকাংশ সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকাযোগেই স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। অভিভাবক লেচু মিয়া, ইছাক মিয়া ও সুবোধ চন্দ্র বলেন, আমরা অবহেলিত হাওর এলাকার হতদ্ররিদ্র মানুষ আমাদের দিকে কেউর নজর নেই। এলাকায় নেই রাস্তা-ঘাট। এর মধ্যে স্কুলটি ভেঙে পড়লেও মেরামতের কোন উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় বাচ্চাদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজি কাবুল খান অভিযোগ করে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলটির অবকাঠামো লণ্ডভণ্ড হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে খোলামাঠে পাঠদান করানো সম্ভব হচ্ছে না। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ফাতেহা খানম জানান, ঘূর্ণিঝড়ে স্কুলটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, বিকল্প ব্যবস্থায়ও পাঠদান করানো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিরুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষিকা লিখিতভাবে বিষয়টি জানানোর পর শিক্ষা কর্মকর্তাসহ স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় উপ-পরিচালক তাহমিনা খানম বলেন, ভরাউট স্কুলের বিষয়টি কেউ আমাকে জানায়নি, জানালে অবশ্যই পরিদর্শন করতাম। এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
