কাউন্সিলরের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা!

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১১:৫৩
 
কাউন্সিলরের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে জেলা সদরের পাচঘড়িয়াকান্দিতে ইউসুফ আলী বেপারি (৫৮) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝুলন্ত অবস্থায় গত রবিবার ইউসুফ আলীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয় কাউন্সিলর জাকির হোসেনের অত্যাচারে ইউসুফ আলী আত্মহত্যা করেছেন বলে তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছে। জাকির হোসেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর ও জেলা কমিউনিটি পুলিশের সদস্য।
 
আত্মহত্যাকারী ইউসুফ আলী বেপারীর ভাই মোঃ ইসমাইল অভিযোগ করে বলেন, জাকির হোসেনের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আমার ভাই গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আমার ভাইয়ের হাতে একটি সুইসাইড নোট ছিল, যা কাউন্সিলর জাকির হোসেন বাড়িতে এসে জোর করে নিয়ে যায়। সুইসাইড নোটে কী লেখা ছিল তা আমি জানতে পারেনি।
 
নিহতের ছেলে নুরু ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় জাকির হোসেন আমার বাবাকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা কারণে অত্যাচার করে আসছিল। তিনি জোর করে পাঁচটি সাদা স্ট্যাম্পে আমার বাবার স্বাক্ষর নেয়। এ অভিযোগ লিখিতভাবে গত ১৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। ওই কাউন্সিলরের অত্যাচারে আমার বাবা আত্মহত্যা করেছে।
 
জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা বলেন, গত ১৭ এপ্রিল ইউসুফ আলী বেপারী স্ত্রী আছমা বেগম আমার কাছে লিখিতভাবে একটি অভিযোগ দেয়। আমি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ইউসুফ আলীদের দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ করা হলে আমি তা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কাউন্সিলর জাকির হোসেনকে ডেকে এনে দোকান বন্ধ করা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করি।
 
এ বিষয়ে কাউন্সিলর জাকির হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। ইউসুফ আলীর পরিবারের সদস্যরা আমাকে যেভাবে দোষারোপ করছে তা ঠিক নয়। আমার কারণে ইউসুফ আলী আত্মহত্যা করেছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সবই মিথ্যা।
 
সদর থানার ওসি ইউনুচ আলী বলেন, ইউসুফের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।