চলতি শুষ্ক মৌসুমে পাবনার সুজানগরের অধিকাংশ খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে চৌচির হয়ে গেছে। এতে উপজেলার মৎস্যজীবীরা তাদের নৌকা রক্ষা করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। সেই সাথে খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ায় মৎস্যজীবীরা বেকার হয়ে পড়েছেন।
এদের মধ্যে ২/৪জন সচ্ছল মৎস্যজীবী দূর-দূরান্তের মৎস্য খামার বা নদী-নালার মাছ কিনে এনে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বেশিরভাগ মৎস্যজীবী তা পারছেন না। উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক গাজনার বিলসহ উপজেলায় ছোট-বড় ২০/২৫টি খাল-বিল এবং নদী-নালা রয়েছে। আর উপজেলার প্রায় ৩ হাজার মৎস্যজীবী এ সব খাল-বিল এবং নদী-নালায় নৌকা চালিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কিন্তু চলতি শুষ্ক মৌসুমে ঐতিহাসিক গাজনার বিলসহ উপজেলার অধিকাংশ খাল-বিল এবং নদী-নালা শুকিয়ে গেছে।
এমনকি গ্রাম-গঞ্জে ব্যক্তি পর্যায়ে খনন করা বেশিরভাগ পুকুরও পানি শূন্য। ফলে যে সকল মৎস্যজীবী ওই সকল খাল-বিলে নৌকার সাহায্যে মাছ ধরে থাকেন তারা তাদের নৌকা রক্ষা করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। উপজেলার বাদাই গ্রামের ভুক্তভোগী মৎস্যজীবী সমির কুমার জানান, আমরা মৎস্যজীবীরা নৌকার সাহায্যে খাল-বিলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। কিন্তু বর্তমানে উপজেলার খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় নৌকা রাখার মত পানি পাচ্ছিনা। ২/৪জন মৎস্যজীবী আশ-পাশের পুকুরে তাদের নৌকা ডুবিয়ে রক্ষা করতে পারলেও বেশিরভাগ নৌকা শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিলে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি খাল-বিল শুকিয়ে যাওয়ায় মাছ ধরতে না পেরে বেশিরভাগ মৎস্যজীবি তাদের পরিবারপরিজন নিয়ে অত্যন্ত কষ্টে দিনাতিপাত করছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।
