ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পরে হা-মীম গ্রুপের জুট মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু

আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৭, ১৫:৫০
দৈনিক ইত্তেফাকে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর অবশেষে তড়িঘড়ি করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের হা-মীম গ্রুপের এম এইচ জুট মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ। মঙ্গলবার টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তাগণ জুট মিলে পরিদর্শন করে অতি দ্রুত বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে গত সোমবার দৈনিক ইত্তেফাকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় এম এইচ জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ শীর্ষক একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদটি প্রকাশ হওয়ার পর পরই নড়েচড়ে বসে বিদ্যুৎ বিভাগ।এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনেও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।আজ বুধবার  গোড়াই শিল্পাঞ্চলের হা-মীম গ্রুপের এম এইচ জুট মিলে গিয়ে দেখা গেছে বিদ্যুৎ সংযোগ হওয়ায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু হয়েছে।
 
মিলের কর্মকর্তারা জানায়, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকার পরও কোন কারণ ছাড়াই পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়।ফলে বেশ কিছু দিন ধরে এম এইচ জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৯ শতাধিক শ্রমিক কর্মচারীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।চাকুরী হারানোর আশংকায় উত্তেজনা বিরাজ করে।মিলের তিনটি ইউনিটই বন্ধ থাকায় প্রতি দিন লাখ লাখ টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছিল বলে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মালিক পক্ষ অভিযোগ করেন।
 
 এম এইচ জুট মিল সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে এই একটি মাত্র পাটের মিল রয়েছে যেখানে মির্জাপুর উপজেলা ও টাঙ্গাইল জেলার অন্যান্য উপজেলা থেকে বেপারি ও কৃষকরা সরাসরি এখানে পাট বিক্রি করে থাকেন।তাদের পাট দিয়ে এখানে সুতা উৎপাদন করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন কি বিদেশেও বাজার জাত করা হচ্ছে।প্রায় ৭৮ একর জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই মিলের তিনটি ইউনিটে ৯শতাধিক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।এই মিলের উৎপাদিত পাটের সুতা উন্নতমানের হওয়ায় এর চাহিদাও বেশী।
 
খোঁজ নিয়ে দেখা চলতি মাস পর্যন্ত মিলের কোন বিদ্যুৎ বিল এবং গ্যাস বিলও বকেয়া নেই।পল্লী বিদ্যুৎ অফিস এবং জুট মিল সূত্রে জানা গেছে,মিটারের মালিক এম এইচ জুট মিল হিসাব নং-৪১-১০৪০ এবং বিল নং-২০১৫৮৭৫৯৮৬-এ গত মার্চ মাসে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৫৭টাকা বিল নিয়মিত ভাবে পরিশোধ রয়েছে। কিন্তু মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ (গোড়াই জোনাল অফিস) বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কোন কারণ ছাড়াই রহস্য জনক কারণে গত ১৫ এপ্রিল মিলের ভিতরে ঢুকে রহস্য জনক ভাবে মিলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে চলে আসেন।ফলে মিলের সুতা উৎপাদনসহ সকল কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়।কি কারণে মিলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগে মিল কর্তৃপক্ষ ও মিলের কর্মকর্তারা বারবার যোগাযোগের পরও কোন প্রশ্নে উত্তর মিলেনি বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন।
 
এ ব্যাপারে এম এইচ জুট মিলের জিএম(এডমিন) মো. আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ থাকার পরও গোড়াই পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস কোন কারণ ছাড়াই রহস্য জনক কারণে জুট মিলের বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়। দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার পর বিদ্যুৎ বিভাগ মিলের বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ দিয়েছেন। মিল কর্তৃপক্ষ ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ গোড়াই জোনাল অফিসের এজিএম(কম) মো. বদরুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,এম এইচ জুট মিল, এলাকাবাসী ও বিদ্যুৎ বিভাগের মদ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে বিদ্যুৎ লাইন দ্রুত সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির