চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর গ্রামে জঙ্গি সন্দেহে ঘিরে রাখা বাড়িতে থাকা আবুল কালাম আজাদ ওরফে আবুর (৩২) সঙ্গে বাবার পরিবারের যোগাযোগ ছিল না।
ঘিরে রাখা বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে আবুর বাবা আফসার আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আবুর মা ফুলসানা বেগম (৫০) অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন। তিনি জানান, আট বছর আগে উপজেলার আব্বাস বাজার এলাকার রুহুল আমিনের মেয়ে সুমাইয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় আবুর। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই তার ছেলে শ্বশুর বাড়িতে থাকত। আবুর দুই মেয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে আবুর খুব বেশি যোগাযোগ ছিল না, তবে মাঝে মধ্যে রাস্তায় দেখা দেখা হতো।
এদিকে আবুর বাবার বাড়ির পাশের কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, আবু শ্বশুর বাড়ি ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদ উদযাপন করত। এনিয়ে তার বাবার সঙ্গে মত পার্থক্য ছিল। শ্বশুর বাড়ি গিয়েই আবু এসব আলাদা রীতিনীতি গ্রহণ করে। বাবা এ নিয়ে তাকে অনেক বুঝিয়েছে কিন্তু আবু এ সব ছাড়েননি। আবু পেশায় একজন মসলা বিক্রেতা। তিনি বাড়ির কাছের চাতরা ফাজিল মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন বলে জানায় প্রতিবেশীরা।
স্থানীয়রা আরো জানান, সাধারণত মসজিদে জামায়াত শেষ হওয়ার পর আবুসহ কয়েকজন মিলে নামাজ পড়ত। সর্বশেষ বাবার বাড়িতে কিছুদিন ছিল। এরপর বাবার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন তার বাবা। পরে আবু বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে জেন্টু বিশ্বাসের একটি অব্যবহৃত বাড়ি ভাড়া নেয়। বাড়ির মালিক জেন্টু বিশ্বাস তাকে মূলত বাড়িটি দেখা-শুনার জন্য বিদ্যুৎ বিলসহ সামান্য টাকায় ভাড়া দেন বলে বাড়ির মালিকের ছেলে আনারুল ইসলাম বাবুল জানান। গত ফেব্রুয়ারি থেকে তাদের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল আবু।
