কালবৈশাখীর ছোবলে লণ্ডভণ্ড কুশলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৭, ০১:২৪

কালবৈশাখীর ছোবলে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে জেলার তেরখাদা উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত কুশলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। ৯০ ফুট দৈর্ঘ্য এবং ১৮ ফুট প্রস্থ বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরটি ২৩ ও ২৪ এপ্রিল দুই দিনের ঝড়ে উড়ে যায়। বিদ্যালয়ের এ ঘরে সকল কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এলাকার বিশিষ্টজনরা অবহেলিত এই জনপদের শিশু সন্তানদের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০০ সালে কুশলা আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ বিদ্যালয়ে ১৩ জন শিক্ষক কর্মচারী ১৭ বছর ধরে এ এলাকার সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। বর্তমানে ২৭৮ জন শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে নিয়মিত অধ্যয়ন করছে। ১৭ বছর আগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ভবন নির্মাণ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের এই টিনশেড ঘরটি শিক্ষক ও অভিভাবকদের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয় বলে জানা যায়। প্রতিবছর কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর কিছু না কিছু ক্ষতি হয়। এ বছর যে অবস্থা  বিরাজ করছে তাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত্ নিয়ে শংকিত অভিভাবক মহল।

স্থানীয় বিশিষ্টজনরা বলেন, বিদ্যালয়ের এই অবস্থা কাটিয়ে উঠতে না পারলে শিক্ষা কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হবে। সরকারিভাবে এ বিদ্যালয়ে একটি ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গত ২৫ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন সরেজমিনে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

হোমনায় কালবৈশাখীতে অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড, ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

 হোমনা (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

 গতকাল মঙ্গলবার রাতে হোমনা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত কালবৈশাখীর ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ডসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুত্ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। উপজেলার শ্রীমদ্দি, লটিয়া, চরেরগাঁ, দুলালপুর, মাথাভাঙ্গা, রামকৃষ্ণপুর, ঘাগুটিয়া, বাবরকান্দি, চুনারচর, দড়িচর, মিরশ্বীকারী এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব এলাকার জমির কাঁচা-পাকা ইরি-বোরো ধানগাছগুলো মাটিতে পড়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

মরিচ ক্ষেত ও তিল ক্ষেতেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও বাজারের ছোট-বড় অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। গাছপালা ভেঙে সড়কে পড়ে গিয়ে অনেক স্থানে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। হোমনা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ আক্তার হোসেন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে, অনেক স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং অনেক বাড়ির মিটার জ্বলে গেছে। উপজেলায় দ্রুত বিদ্যুত্ সরবরাহ করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, তুফানে ইরি ধান ও তিল ক্ষেতের বেশি ক্ষতি হয়েছে। শ্রীমদ্দি গ্রামের কৃষক মোঃ আবদুল বাতেন জানান, এবার আমি ধার-কর্জ করে সাত বিঘা জমিতে ইরি ধান চাষ করি। তুফানে এর বেশির ভাগ ক্ষেতের ধান গাছই মাটিতে পড়ে পানির নিচে গিয়ে ক্ষতি হয়ে গেছে।

ইত্তেফাক/নূহু