শিশু সোয়াইবুর হত্যা মামলা
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে শিশু সোয়াইবুর রহমান হত্যা মামলায় মা সিতারা বেগম (৩৭) ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে (৩৫) মৃতুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন।
মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রেমিক বারিক মিয়া জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার চিতুলিয়া গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে ও ঘাতক মা সিতারা বেগম একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী।
আদালত সূত্র জানায়, স্বামী রফিকুল ইসলাম সৌদি আরব প্রবাসী হওয়ার সুযোগে তার স্ত্রী সিতারা বেগম একই গ্রামের আলকাছ আলীর ছেলে বারিক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। তাদেরকে অনৈতিক অবস্থায় দেখে ফেলে সিতারা বেগমের শিশু ছেলে। শিশুটি এ ঘটনা তার বাবার কাছে বলে দেবে এমন ভাবনায় মা ও প্রেমিক একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের কিশোর ছেলে সাবুল মিয়াকে দিয়ে একই দিন সন্ধ্যায় সোয়াইবুরকে গ্রামের হাফিজিয়া মাদ্রাসার কাছে নিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে তার মা ও বারিক মিলে গলা টিপে হত্যা করে মাদ্রাসার টয়লেটের ট্যাংকিতে ফেলে দেয়।
পরে পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে। পর দিন ১৫ অক্টোবর শিশু সোয়াইবুরের চাচাত ভাই বাদী হয়ে ঘাতক মা সিতারা বেগম, প্রেমিক বারিক ও কিশোর সাবুলকে আসামি করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার আদালত ঘাতক মা সিতারা বেগম ও তার প্রেমিক বারিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। সঙ্গে সঙ্গে আসামি বারিককে কারাগারে এবং ঘাতক সিতারা বেগম পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশকে নির্দশ দেন। অপর আসামি সাবুল কিশোর হওয়ায় তার বিচার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে চলছে।
