বানের জলে ভাসছে কৃষকের স্বপ্ন

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৭, ১৯:৫৮
সপ্তাহ খানেক আগেও চলনবিল ছিল পানিশূণ্য। দিগন্তজোড়া বিস্তৃর্ণ ধানের ক্ষেত। আপাত দৃষ্টিতে যতদূর চোখ যায় সোনালী-সবুজের সমারহ। সব ঠিকঠাক থাকলে দিন দশেকের মধ্যেই গোলাভড়া ধান ঘরে উঠবে। এমন স্বপ্নেই বুক বেঁধেছিল কৃষক। 
 
হঠাৎ-ই বদলে গেল চিত্র। জমি আছে। আছে ধান। তবে খরা প্রবন চৈত্রে যোগ হয়েছে অকাল বন্যার পানি। পানিতে একাকার হয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত। ফসলের সাথে বানের জলে ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। স্বপ্নের সেই জায়গায় স্থান করে নিয়েছে শুধুই হতাশা আর অপ্রাপ্তি।  
 
এ অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চলনবিলের ৩০০ হেক্টর জমির ধান পানিতে একাকার হয়ে গেছে। জেগে থাকা ধান ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় চলনবিলজুড়ে কাঁচা ধান কাটার হিরিক পড়েছে। আবার ভেজাল বিজের কারণে এক হাজার বিঘা জমির ধানে চিটা দেখা দিয়েছে। ফলে স্বপ্নের ধান গোলায় তুলতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক। তবে গত দুই দিন পানি বৃদ্ধি স্থীতিশীল থাকায় কৃষকরা যে যার মতো ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি ও ডুবে যাওয়া ধান কষ্টে কৃষ্টে কাটা গেলেও তা আর কৃষকের ঘরে উঠছে না। প্লাবিত জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের প্রতিদিন মুজুরি দিতে হচ্ছে ৬শ টাকা। বহন ও মাড়াইয়ে দিতে হচ্ছে ৬ মণ ধান। যে ধান উপাদিত হচ্ছে তা শ্রমিকের মজুরি দিয়ে কৃষকের ঘরে ধানের পরিবর্তে উঠছে খর। 
 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টানা বর্ষণে চলনবিলের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই, গুড় ও গুমানি নদীর পানি চলনবিলে প্রবেশ করেছে। এতে গুরুদাসপুরের পিপলা, বিলশা, রুহাই, যোগেন্দ্রনগর বেসানি বিল ও সিংড়ার আনন্দনগর, বেড়াবাড়ি, কালিনগর, সারদানগরসহ অন্তত ১০টি বিল এবং সিরাজগঞ্জের কয়েকটি বিলের প্রায় তিন’শ হেক্টর জমির ধান পানিতে একাকার হয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া ধানের বেশিরভাগ নষ্ট হলেও পানিবন্দি অন্যসব জমির ধান কেটে ঘরে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
 
নাটোর কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলনবিলের নাটোর জেলায় বোরো ধানের চাষ করা হয়েছিল ৫৬ হাজার ৪১৬ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে চলনবিল অংশের গুরুদাসপুর, সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের অন্তত ৩০টি বিলের ৭শ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়া এসব জমির প্রায় তিন’শ হেক্টর-ই ধান। সব মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
 
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানিতে কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরনীয়। তবে আশার কথা হলো বর্তমান পরিস্থিতিতে পানি বৃদ্ধি স্থিতিশীল রয়েছে। বৃষ্টি নেই। এ কারণে কৃষক এখন ধান কাটতে পারছে।
 
জেলা প্রসাশক শাহিনা খাতুন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়ন ও ক্ষতি পূরণ দেয়ার ব্যপারে সচেষ্ট হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি