আমাদের দেশে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা এত নিম্ন যে, কোনো মেধাবী প্রাথমিক শিক্ষক হতে চান না, যাঁরা আসেন তাঁরাও লজ্জায় পালান অথবা পালানোর চেষ্টা করেন। অথচ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার জন্য সেরা মেধাবীরা সবসময় সচেষ্ট থাকেন। প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব বুঝেছিলেন আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই তো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের রাজকোষে অর্থ না থাকা সত্ত্ব্বেও তিনি ১৯৭৪ সালে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে জাতীয়করণ করেছিলেন। তাছাড়া বঙ্গবন্ধু সকল শিক্ষককে সমান মর্যাদা দিয়েছিলেন বলে প্রধানশিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বেতনের মধ্যে কোনোরকম পার্থক্য রাখেননি। সেখানে বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা প্রধানশিক্ষকদের চেয়ে ৪ ধাপ নিচের গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় প্রধানশিক্ষকরা ১৬০০০ টাকা স্কেলে (১০ম গ্রেড) বেতন পাচ্ছেন (হাইকোর্টের রায় অনুসারে)। আর সহকারী শিক্ষকের বেতন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১০২০০ টাকা (১৪ গ্রেড), প্রশিক্ষণবিহীন ৯৭০০ টাকা (১৫ গ্রেড)। অথচ পদ অনুসারে প্রধানশিক্ষকের পরের গ্রেডে অর্থাত্ ১১তম গ্রেডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় সহকারী শিক্ষকের বেতন পাওয়ার কথা। প্রধানশিক্ষকদের পরের গ্রেডে বেতন পাওয়ার জন্য সহকারী শিক্ষকরা অনেকদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন এবং তাঁদের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণ করলেও তা পূরণ করা হচ্ছে না। সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড প্রদান করা হলে সমাজে ও রাষ্ট্রে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, মেধাবীরা এ পেশায় আকৃষ্ট হবেন। মেধাবী শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জিত হবে। এ ব্যাপারে আশু ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মাহফিজুর রহমান মামুন
সহকারী শিক্ষক, ভীমদামাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোদা, পঞ্চগড়
