ইত্তেফাক রিপোর্ট
আগামীতে বীমা গ্রহীতাদেরও বাধ্যতামূলকভাবে করদাতা সনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে হবে। এটি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিগগিরই চিঠি দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের টিআইএন আছে কিনা তাও উল্লেখ করেন তিনি। আয়করের আওতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে আরো কিছু কার্যক্রমও গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
আগামী জুনের শুরুতে সরকার পরবর্তী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে। বাজেটের আগে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড গতকাল সকাল থেকে তিনটি আলাদা আলোচনার আয়োজন করে। প্রথম দফায় বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই), এর পর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) এবং তৃতীয় দফায় ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনাকালে টিআইএনধারী বাড়ানোর চেষ্টার কথা জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, টিআইএনধারী না হলে যাতে বীমা করা না হয়, সে জন্য আপনাকের কাছে আমরা চিঠি পাঠাবো। যিনি বীমায় বিনিয়োগ করবেন, নিশ্চয়ই তার সঞ্চয় রয়েছে। এছাড়া যারা শেয়ারবাজারে রয়েছে, তাদের টিআইএন রয়েছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখতে হবে। পর্যায়ক্রমে টিআইএন বাধ্যতামূলক করা হলে করের আওতা বাড়বে। এ লক্ষ্যে এনবিআরের কর বিভাগ পরিচালিত জরিপ কার্যক্রমের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, করযোগ্য ব্যক্তিকে করের আওতায় আসতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার স্থিতিশীল করার জন্য বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সিএসই’র পক্ষ থেকে বলা হয়, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা, তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম তিন বছর কর অব্যাহতি ও পরবর্তী বছরগুলোয় ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ, করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা, কোম্পানি করদাতা কর্তৃক অপর তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে লভ্যাংশ আয়ের উপর কর মওকুফ, তালিকাভুক্ত বা অতালিকাভুক্ত বন্ডের সুদ আয়ের উপর কর অব্যাহতি, বন্ড লেনদেনের উপর কর অব্যাহতিসহ ৯টি দাবি তুলে ধরা হয়।
এ সময় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বাংলাদেশ লিজিং ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোর সংগঠনসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
