প্রাক-বাজেট আলোচনা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে বিদ্যমান ব্যবসায়ের কর বা কর্পোরেট করহার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি উল্লেখ করে তা কমানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমাও বিদ্যমান আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনাকালে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। ডিসিসিআই সভপতি ওসামা তাসীরসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সারচার্জ (করের উপর কর বা মাশুল) পুনর্নির্ধারণ, লভ্যাংশ আয়ের আয়ের উপর দ্বৈত কর না রাখা ও করহার কমানো, ঋণ হিসাব হতে দ্বৈত আবগারি শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অবশ্য বাংলাদেশে কর্পোরেট করহার বেশি - ডিসিসিআইএ’র এমন প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা পরীক্ষা করে এমন বক্তব্যের সত্যতা পাইনি। ভারতসহ আরো কিছু দেশে আমাদের চেয়েও কর্পোরেট করহার বেশি। তবে কর্পোরেট করহার ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার ইচ্ছার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গতবারও কর্পোরেট করহারে ছাড় দিয়েছি। এ সময় তিনি বলেন, জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান যে হারে বাড়ছে সেই তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়ছে না।
এ সময় ডিসিসিআই’র পক্ষ থেকে সহজ ও ব্যবসাবান্ধব আয়কর ব্যবস্থা ছাড়াও কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধি, আয়কর সংগ্রহে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, কর ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও স্থানীয় শিল্প উত্সাহিত করতে উদ্যোগ নেওয়া তথা সরকার নির্ধারিত সাড়ে আট শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আগামী বাজেটে ভোগ্য পণ্য, উত্পাদন উপকরণে ট্যারিফ ভ্যালু ও প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা, ভ্যাট রেয়াত ও প্রদান পদ্ধতি সহজ করা, অন লাইনে ভ্যাট আদায়সহ বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
এ সময় ডিসিসিআই সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী, পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, হোসেন এ সিকদার, কে এম এন মঞ্জুরুল হক, রাশেদুল করিম মুন্না প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
