জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রয়োজন সচেতনতা

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৮

জরায়ুমুখ ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এই রোগে প্রতিবছর প্রায় ৫০ লক্ষাধিক নারী নতুন করে আক্রান্ত হয়। সাধারণত অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের নারীরা স্বাস্থ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন না বলেই এই রোগের বিস্তার বেশি। তবে উন্নত দেশের নারীরা শুধু সচেতনতার জন্য এই রোগ থেকে অনেকটাই নিরাপদ।

সাধারণত ২০ বছরের কম বয়সীরা এই রোগে আক্রান্ত হন না। আক্রান্ত নারীরা ৩৫-৫৫ বছর বয়সী হয়ে থাকেন। হিউম্যান প্যাপিলোমা বা এইচপি ভাইরাস জরায়ুমুখ ক্যান্সারের একটি অন্যতম কারণ। তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। অন্য কারণগুলো হলো—১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে কিংবা যৌনসম্পর্ক, কম বয়সে সন্তান ধারণ বা অধিক সন্তান প্রসব, ধূমপান ও তামাক গ্রহণ, বহুগামিতা, জননাঙ্গের অপরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব ইত্যাদি।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষণ দেখা যায়। যেমন: সাদা দুর্গন্ধযুক্ত অতিরিক্ত যোনিস্রাব, সহবাসের পর হঠাত্ রক্তক্ষরণ, তলপেটে অস্বস্তি ভাব থাকা, ওজন হঠাত্ দ্রুত কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া ইত্যাদি।

জরায়ুমুখ ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য অসুখ। চিকিত্সক বা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই ভায়া টেস্টের মাধ্যমে ক্যান্সারপূর্ব অবস্থা নির্ণয় করতে পারেন। প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগ ধরা পড়লে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই ৩০ বছর বয়সের পর বছরে একবার এবং পরপর দুই বছর নেগেটিভ রিপোর্ট হলে ৫ বছর পরপর ভায়া টেস্ট করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। বর্তমানে আমাদের দেশে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধক টিকা পাওয়া যায় যা অত্যন্ত কার্যকর।

লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ