বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বা নীতিমালা প্রণয়ন ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্মল বায়ু ও পরিবেশের টেকসই উন্নয়নকল্পে ১৪৬ কোটি ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘নির্মল বায়ু এবং টেকসই পরিবেশ’ শীর্ষক এ প্রকল্পটি আগামী ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারদলীয় সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর এক প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এ তথ্য জানান। সরকার দলীয় এমপি মমতাজ বেগমের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালের পূর্বে পরিবেশ অধিদফতরের ঢাকাস্থ সদর দফতর ও ৬টি বিভাগীয় কার্যালয়ে সীমাবদ্ধ ছিল। অনুমোদিত জনবল ছিল ২৪৪ জন। ২০১০ সালে ২১টি জেলায় পরিবেশ অধিদফতরের সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করে জনবল ৭৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। সরকার রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় অফিসসহ অবশিষ্ট ৪৩ জেলায় অফিস স্থাপনসহ ১৮৪টি নতুন পদ সৃজনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, যা অনুমোদন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এম. আবদুল লতিফ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বায়ু দূষণে এক বছরে দেশে এক লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে বিশ্ব ব্যাংকের ২০১৩ সালের এ প্রতিবেদন তৈরিতে উৎস হিসেবে ভূ-উপগ্রহের মাধ্যমে প্রাপ্ত উপাত্ত, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, রান্নায় ব্যবহৃত জ্বালানি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুমানমাত্রা মডেলের মাধ্যমে এক ধরনের প্রক্ষেপণ বিশ্লেষণ করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বায়ু দূষণ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশেরও একটি সমস্যা।
সমস্যা নিরসনে সরকারের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম তুলে ধরে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জানান, পরিবেশ দূষণকারী ইট ভাটা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৩ সালে থেকে ২০১৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৫০৫টি অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট পরিচালনা করে ১৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০১৪ সাল হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত ২৮৫টি অবৈধ ইট ভাটার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৪৫ লাখ ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জানান, যানবাহন সৃষ্ট বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে পরিবেশ অধিদফতর নিয়মিতভাবে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে গাড়ির ধোঁয়া পরিবীক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে এবং দূষণ সৃষ্টিকারী গাড়ির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ২০০৯ সাল হতে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেল চালিত মোট ৫ হাজারের অধিক মোটরবাইক, কার, মাইক্রোবাস, মিনিবাস, বাস, ট্রাক, মিনি-ট্রাক এবং অটোরিকশা নিঃসৃত ধোঁয়া পরিবীক্ষণ ও ফলাফল বিশ্লেষণপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/সাব্বির
