বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টিদের মতবিনিময় সভা

আপডেট : ০২ মে ২০১৭, ২১:৪৮
 
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করাও কঠিন।' সম্প্রতি ইউজিসি’র (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) নেওয়া বেশ কয়েকটি নির্দেশনার জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
 
তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'সিদ্ধান্ত আরোপ করে সমাধান হবে না। এর ফলও ভালো হয় না। নির্দেশনা দেওয়ার আগে ভেবে দেখা উচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে তা বাস্তবায়ন করা কতখানি সম্ভব।'
 
গত রবিবার ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী মিলনায়তনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ট্রাস্টিদের এক মতবিনিময় সভা হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির আয়োজনে এ সভায় তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- পিপলস ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এমপি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও এপিইউবি'র সেক্রেটারি জেনারেল বেনজীর আহমেদ, ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. ফরাস উদ্দিন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার উপদেষ্টা রোকেয়া আফজাল রহমান, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান সরোয়ার জাহান, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টসের ভাইস-চেয়ারম্যান ড. কাজী আনিস আহমেদ, খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. রেজাউল আলম, ইবাইস ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ড. জাকারিয়া লিংকন, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির ভাইস চেয়ারম্যান ইউ এ কবিরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  অর্ধশত ট্রাস্টি ও প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড ও এপিইউবি’র চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান স্যার ফজলে হাসান আবেদ একটি লিখিত বক্তব্য পাঠান।
 
স্যার ফজলে হাসান আবেদ লিখিত বক্তৃতায় বলেন, স্নাতক শিক্ষার ক্ষেত্রে তিন সেমিস্টার পদ্ধতির প্রাথমিক উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির শর্ত পূরণ করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করা। যাদের জন্য শিক্ষা-কার্যক্রমে সময় ব্যয় করাটা অর্থনৈতিকভাবে বোঝা, সেই সব শিক্ষার্থীর জন্য তিন সেমিস্টার বিশিষ্ট শিক্ষাবর্ষ অত্যন্ত উপযোগী। উচ্চ শিক্ষার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গেও এই সিস্টেমই সঙ্গতিপূর্ণ।
 
সভায় বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং তা নিরসনের উপায় নিয়ে বেশ কয়েকজন ট্রাস্টি চেয়ারম্যান তাদের পরামর্শ উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম সম্পর্কে বিশেষ ক্ষেত্র ছাড়া স্বকীয়তা থাকতে হবে বলে অভিমত দেন তারা।
 
অ্যাসোসিয়েশন অব প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ অব বাংলাদেশের (এপিইউবি) পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে অবিলম্বে যোগাযোগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।