বেরোবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সত্যতা পেয়েছে ইউজিসি

আপডেট : ০৩ মে ২০১৭, ২৩:০২

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের সত্যতা পেয়েছে ইউজিসি’র তদন্ত কমিটি। আজ বুধবার তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিলের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ওই প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে মোট ১৬টি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা যায়। প্রতিবেদনে মোট ১৬টি অনিয়মের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করে ৬টি মতামত ও সুপারিশ প্রদান করেছে তদন্ত কমিটি।

জানা যায়, প্রতিবেদনে উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, একাই একাধিক পদে দায়িত্ব পালন, ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউট অকার্যকর, পুলিশের দায়েরকৃত অজ্ঞাতনামা মামলায় শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি, জাল সনদধারীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ মাসে রেজিস্ট্রার পদে পছন্দের ৫ জনকে নিয়োগ, বন্ধ ক্যাফেটেরিয়া ও ডরমেটরি চালুকরণে উপাচার্যের উদাসীনতা, পদায়ন ও ভাতা প্রদানে অনিয়ম, ভর্তি পরীক্ষায় জালিযাতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সংবিধি-প্রবিধি প্রণয়নে উপাচার্যের উদাসীনতার বিষয়ে অভিযোগগুলোর সত্যতা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছেন তদন্ত কমিটি।

এছাড়াও তদন্ত কমিটির কাছে পেশকৃত অভিযোগের মধ্যে উপাচার্যের আপ্যায়ন বিল বাবদ হিসাবের অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন, একাই তিনটি গাড়ি ব্যবহার করে গাড়ি বিলাসীতা ও স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার বিষয়েও সত্যতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি ৬টি সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেছে, এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা ও গবেষণা কাজ সুষ্ঠভাবে পরিচালনা করতে উপাচার্য সফল হননি, উপাচার্যর অব্যাহত অনুপস্থিতি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ রক্ষার্থে তিনি সচেষ্ট ছিলেন না, ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ করে সকল নথিপত্র নিজের কাছে রাখা, এবং বিভিন্ন ভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপাচার্য প্রফেসর ড. একেএম নূর-উন-নবী আত্মসাত করেছেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ৬ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা দেখতে গেলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি আর এম হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান উপাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২ আগস্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ইউজিসি। গত ২৬ ডিসেম্বর কমিটির আহবায়ক ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আক্তার হোসেন, সদস্য সচিব ফকরুল ইসলাম ও সদস্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানুর রহমান সরেজমিনে তদন্ত করতে রংপুরে আসেন।

অভিযোগকারী শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, অবশেষে তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। প্রতিবেদনের আলোকে এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সরকারের উচ্চমহলে জোরালো অনুরোধ করছি।

তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহম্মদ ইব্রাহীম কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য অফিসিয়ালি আসেনি। তবে শুনেছি ইউজিসি থেকে তদন্ত কমিটি নাকি প্রতিবেদন দিয়েছে। ক্যাম্পাসে অনেকের কাছে নাকি এর কপিও আছে। তবে এটি ইউজিসির প্রতিবেদন কিনা বলতে পারব না।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নূর-উন-নবী বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে আমি অফিসিয়ালি কিছুই জানি না। একজন গণমাধ্যমকর্মীর কাছ থেকে বিষয়টি শুনেছি।

ইত্তেফাক/নূহু