ঝিনাইদহ ও পটিয়ায় বিএনপির সম্মেলনে সংঘর্ষ, আহত ৪৫

আপডেট : ০৪ মে ২০১৭, ০০:০৮

গতকাল বুধবার ঝিনাইদহে বিএনপির প্রতিনিধি সভা ও চট্টগ্রামের পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে সংঘর্ষ হয়েছে। দুটি স্থানে মোট ৪৫ জন আহত হওয়ার খবর জানা গেছে।

ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহে বিএনপির প্রতিনিধি সভায়  দু গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে  কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার সকালে শহরের  ডা: কে আহম্মদ পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপির সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে প্রতিনিধি সভা শুরু হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন  বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা  সাবেক এমপি অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন ( ভিপি জয়নাল)। বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরু হলে দাওয়াত না পাওয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত  শৈলকুপার ১৭ জন ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। আমন্ত্রণপত্র না থাকায় তাদের গেটে বাধা দেওয়া হয়। তারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ সমর্থক বলে জানা যায়। কমিউনিটি সেন্টারের সামনে হট্টগোল  শুরু করেন তারা। তারা ভিতরে ঢুকতে গেলে উভয় গ্রুপের মধ্যে মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এরপর ঢুকতে না পারা ঐ গ্রুপের নেতাকর্মীরা কমিউনিটি সেন্টারে হামলা চালায়। তাদের ইট-পাটকেলে কমিউনিটি সেন্টারের জানালার কাচ ভেঙে ভিতরে ইট পড়তে থাকে। এ সময় ভিতরে ইট ও কাচের টুকরার আঘাতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়। আহত  ৯ জনকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বাকিদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো সভা  শুরু  হয়। বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু,     অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ, আমিরুজ্জামান শিমুল, মনির খান, সাবেক এমপি আব্দুল ওহাব, সাবেক এমপি শহিদুজ্জাদান বেল্টু প্রমুখ।  ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিনিধি সভায় ভেতরে প্রবেশ করাকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক জয়নাল আবেদিন সভা শেষে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের সভাকে বানচাল করার জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এখানে ইট-পাটকেল ছুড়ে। কাচ ভেঙে বহু লোক আহত হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগের ইন্ধনে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।

পটিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে পটিয়ায় বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। বুধবার বেলা সোয়া তিনটায় কর্মী সম্মেলনে এনামসহ তার নেতাকর্মীরা সভায় ঢোকার সময় এই ঘটনা ঘটে।

দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে দক্ষিণ জেলা বিএনপি কর্মী সভার আয়োজন করেন পটিয়া পৌর সদরের টুডে কনভেশন সেন্টারে। এতে অতিথি থাকার কথা ছিল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এম, মোর্শেদ খান, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলামের। বেলা ৩টার দিকে এনামুল হক এনামের নেতৃত্বে একটি মিছিল সভাস্থলে ঢোকার প্রাক্কালে জুয়েল গ্রুপের অনুসারীরা তাদের বাধা দেয়। এই ঘটনার সূত্র ধরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়ে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি দেখে কেন্দ্রীয় কমিটির অতিথিরা দ্রুত ফিরে যান। এনাম রক্তাক্ত অবস্থায় সভাস্থল থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসলে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহা সড়কে অর্ধশতাধিক গাড়ি ভাঙচুর করে ও ব্যারিকেড দেয়। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে। এ সময় মো. আকবর নামের (২০) এক যুবককে পুলিশ আটক করেছেন। পুলিশ ব্যারিকেড সরিয়ে নিলে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ইত্তেফাক/নূহু