বিনোদন রিপোর্ট
আমি কোনো চ্যানেল বন্ধ হওয়ার পক্ষে না। চ্যানেল বন্ধ হওয়া নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে সেটি পুরোপুরি চ্যানেল বন্ধের নয়। দেশের যে বিজ্ঞাপনগুলো ভারতের চ্যানেলে প্রচার হয় সেগুলো বন্ধ করার জন্য এই উদ্যোগ। ডাউনলিংকের মধ্য দিয়ে চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন বাদ দিয়ে যেন প্রচার করা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে।
—মসুম রেজা
‘যে চ্যানেলগুলো আমাদের সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সেগুলো বন্ধ করা উচিত। সরকার থেকে এমন উদ্যোগ যদি নেওয়া হয় সেটি অবশ্যই ভালো বলে আমি মনে করি। এটি আমাদের জন্য নিশ্চয় একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যানেলগুলোর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন দর্শকদের চিন্তা করে তাদের চাহিদামতো অনুষ্ঠান বা নাটক প্রচার করে।
—সালাউদ্দিন লাভলু
এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো জানি না। সারাদিন অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা হয়নি। তাই এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। বিষয়টি সম্পর্কে সার্বিকভাবে জেনে আমি গণমাধ্যমে অবশ্যই আমার প্রতিক্রিয়া জানাবো।
—শহীদুল আলম সাচ্চু
জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো দেখা যাবে না বাংলাদেশে। এরইমধ্যে জি নেটওয়ার্কের জি বাংলা, জি সিনেমাসহ বেশ কয়েকটি চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে সূত্র বলছে, এটি সাময়িক। যেকোনো সময় আবার চালু হতে পারে চ্যানেলগুলো।
এ বিষয়ে গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির নাট্যশালা সম্মেলন কক্ষে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র (বিজেসি) আয়োজিত ‘সঙ্কটে বেসরকারি টেলিভিশন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেখানো দণ্ডনীয় অপরাধ। ১ এপ্রিল থেকে কোনো বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি চ্যানেলে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার করা অবৈধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ তিনি আরো বলেন, ‘কিছু বিদেশি চ্যানেল বাংলাদেশে জনপ্রিয় হওয়ায় এদেশের কিছু প্রতিষ্ঠান সেই চ্যানেলগুলোতে তাদের পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করছে। এতে দেশি টিভি চ্যানেলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো বছরে ৩শ’ থেকে ৫শ’ কোটি টাকার ব্যবসা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ প্রসঙ্গে নাট্যকার সংঘের সভাপতি মাসুম রেজা বলেন, ‘আমি কোনো চ্যানেল বন্ধ হওয়ার পক্ষে না। চ্যানেল বন্ধ হওয়া নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে সেটি পুরোপুরি চ্যানেল বন্ধের নয়। দেশের যে বিজ্ঞাপনগুলো ভারতের চ্যানেলে প্রচার হয় সেগুলো বন্ধ করার জন্য এই উদ্যোগ। ডাউনলিংকের মধ্য দিয়ে চ্যানেলগুলোর বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন বাদ দিয়ে যেন প্রচার করা যায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই কাজটি সময়সাপেক্ষ বলে আপাতত চ্যানেলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সমস্যা সমাধান হলে আবারো চালু করা হবে।’
এছাড়াও ডিরেক্টর গিল্ডের সভাপতি সালাউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘যে চ্যানেলগুলো আমাদের সংস্কৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে সেগুলো বন্ধ করা উচিত। সরকার থেকে এমন উদ্যোগ যদি নেওয়া হয় সেটি অবশ্যই ভালো বলে আমি মনে করি।’
দেশের বাইরের চ্যানেলগুলো বন্ধ হলে দেশের দর্শকদের বিনোদন চাহিদা দেশীয় চ্যানেলগুলো কতটুকু পূরণ করতে পারবে? এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য নিশ্চয় একটি চ্যালেঞ্জ। চ্যানেলগুলোর প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন দর্শকদের চিন্তা করে তাদের চাহিদামতো অনুষ্ঠান বা নাটক প্রচার করে।’
অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি শহীদুল আলম সাচ্চুর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তখন পর্যন্ত তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়টি সম্পর্কে আমি এখনো জানি না। সারাদিন অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি সম্পর্কে আমার জানা হয়নি। তাই এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।’
কোয়াব-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, ‘তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জি নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। বিজ্ঞাপনবিহীন চ্যানেল কোথাও নেই। প্রথমে ছিল বাংলাদেশি বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে না। এটা আরো ৭-৮ মাস আগে বন্ধ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, কোনো পে-চ্যানেলে বিজ্ঞাপন থাকতে পারবে না। সেজন্য জি নেটওয়ার্কের সবগুলো চ্যানেল বাংলাদেশে অটোমেটিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
