বন্ধ হচ্ছে না সিনেমা হল

অনেক প্রশ্নের উত্তর নেই!

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২৭

বিনোদন রিপোর্ট

 

২০১৮ সালে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দেশে চালু ছিল ৩০০ সিনেমা হল। গত ১৪ মাসে এই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে  ১৭৪টিতে। কিন্তু সক্রিয় হলের সংখ্যা ১১২টি। আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা হল চালু হয় ২ ঈদকে কেন্দ্র করে। গত ২ দশকে দেশের কোথাও নতুন সিনেমা হয় তৈরি হয়নি। এদিকে হলশূন্য ২৮টি জেলা! এরমধ্যেই হল মালিক সমিতির সংগঠন ‘প্রদর্শক সমিতি’র নেতারা ১২ এপ্রিল থেকে হল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু গতকাল তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করে সংগঠনটি।

এ প্রসঙ্গে প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন আমাদের দাবিগুলো তিনি পূরণ করবেন। এ কারণে আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছি। তাই এ বৈশাখে ছবি মুক্তি নিয়ে আর কোনো শঙ্কা নেই।’

হিট ছবির অকাল, সিনেমার নির্মাণ সংখ্যা কমে যাওয়া, ভারতীয় ছবি মুক্তিতে কড়া আইন, যৌথ প্রযোজনার আইন শিথিল না করাসহ আরো বেশ কয়েকটি কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রদর্শক সমিতির নেতারা। এর আগে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও মধুমিতা সিনেমা হলের মালিক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘এটা আর নতুন কী! যতদিন যাচ্ছে চলচ্চিত্র কমছে। যা তৈরি হচ্ছে, বেশিরভাগই মানসম্মত না। দেশের প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহ লোকসান গুনছে। মধুমিতা সিনেমা হল প্রথম ৪০ বছরে এমন সাফার করেনি, গত ১০ বছরে যা করেছে।’

এদিকে পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘হলগুলোর কারণেই এমন দশা। অনেক প্রযোজক আমাদের কাছে বলেছেন হল মালিকদের কাছে কেউ ৮০ লাখ, কেউ কোটি টাকার মতো পায়, এগুলো বাকি পড়ে আছে। সব হিসেবের টাকা। আর হিসেবের বাইরে তো আছেই, তার ঠিক ঠিকানা নেই। হল মালিকরা কোনো টাকা দেয় না। এভাবে চললে ভালো ছবি নির্মাণ হবে কী করে? লস দিয়ে কে নির্মাণ করবে?’

দুই সমিতির কাছে গিয়ে উল্টো প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হলো প্রতিবেদককে! একপক্ষ অন্যপক্ষের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন! অবশ্য এটি পুরোনো ঘটনা। কিন্তু দেশের জেলা শহরগুলোর হল কর্তৃপক্ষ থেকে শোনা গেল মিশ্র বক্তব্য। কুমিল্লা শহরের একমাত্র হল চান্দিনার প্রদর্শক মো. আলমগীর বলেন, ‘দিনে এখন ২ থেকে ৩ হাজার টাকার বেশি টিকেট বিক্রি করতে পারি না। অথচ প্রতিদিন গড়ে ৭ হাজার টাকা খরচ হয়। নতুন ছবি না থাকলে প্রতিদিনই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।’ নওগাঁর তাজ সিনেমা হলের মালিক প্রাসাদ সাহা বলেন, ‘আমরা সব দেশের সিনেমা চালাতে আগ্রহী। সেটা না হলেও অন্তত কলকাতার সিনেমাগুলো যেন একইদিনে এদেশেও মুক্তি দেওয়া হয়। কারণ দু-সপ্তাহ পরে এখন ইন্টারনেটেই দেখা যায়।’ বরিশালের একমাত্র হল অভিরুচি সিনেমা হলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, ‘খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। নতুন সিনেমার বিকল্প নেই।’

ঢাকার বলাকা, মধুমিতা, আনন্দ, জোনাকি, অভিসারসহ বেশ কয়েকটি সিনেমা হলে গিয়ে দেখা গেল হল প্রায় শূন্য। বলাকা সিনেমা হলের ম্যানেজার সাজিদ আলী বলেন, ‘দর্শক তো সিনেমা দেখার জন্য হলে আসেন। কিন্তু যদি হলে নতুন সিনেমা না থাকে তাহলে কী দেখতে আসবে তারা। আর কতদিন পুরোনো সিনেমা দেখিয়ে দর্শকদের ধরে রাখা যায়। দুই-তিন মাস পরপর একটা সিনেমা বের হয়। তার ভেতর কিছু এমন সিনেমা আছে যা মানুষকে কোনোভাবেই দেখানো যায় না। পরিচিত নায়ক ছাড়া অন্যদের ছবি চলেই না।’

এদিকে চলচ্চিত্র সমালোচক জাকির হোসেন রাজু বলেন, ‘আমাদের দেশে বিশ্বমানের সিনেমা তো নির্মাণ হচ্ছেই না, অন্যদিকে ডিজিটাল প্লাটফর্মে সারাবিশ্বের সিনেমা দেখা যাচ্ছে। আমাদেরও তাই উঁচুমাপের চিন্তা করতে হবে।’

পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘প্রদর্শকরা উপমহাদেশীয় ছবি আমদানি করে সিনেমা হল চালাতে চান। এতে আমাদের কৃষ্টি-কালচারের প্রতি তাদের মমত্ববোধ কতটা রয়েছে সেক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায়। এসব অমূলক দাবি আর হুমকি দিয়ে এ শিল্পের কল্যাণ অসম্ভব। আমার মনে হয় সরকার শিল্পটির প্রতি আরো মনোযোগ দিয়ে একে একটি সিস্টেমের মধ্যে নিয়ে আসবে।’