তুরস্কের বিভিন্ন শহরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা বিষয়ক একাধিক সেমিনার আয়োজিত হয়। সর্বশেষ সেমিনারটি বৃহস্পতিবার তুরস্কের ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক চেম্বার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টস অ্যান্ড বিজনেসম্যান অ্যাসোসিয়েশন (এমইউএসআইএডি) ইস্তাম্বুল এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে তুরস্কের আঙ্কারা, কাইসারী, বোরসা ও খোজায়েলিতে একই ধরণের ৪টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী তাঁর উদ্বোধনী বক্তব্যে বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, সর্বোপরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার বিষয়টি উল্লেখ পূর্বক বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্য ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুগভীর সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তুরস্কের ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য নানাবিধ ক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য আহ্বান জানান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ মনিরুল ইসলাম বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য তুরস্কের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান।
সেমিনারগুলোতে আশাতীত পর্যায়ে স্থানীয় আগ্রহী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সেমিনারগুলোতে পাওয়ার পয়েন্টর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ-সুবিধার উপর বক্তব্য এবং বাংলাদেশের উপর প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। উক্ত সেমিনারগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিস (এমসিসিআই) এর প্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও সম্ভাবনা বিষয়ে আলোকপাত করেন।
সেমিনারগুলোতে অংশগ্রহণকারী তুরস্কের ব্যবসায়ী এবং বিনিয়োগকারীগণ তুরস্কের সাথে ইউরোপ এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর বাণিজ্য সম্পর্কের কথা আলোকপাত পূর্বক তাঁদের বাংলাদেশসহ ঐ অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তুরস্কের যেসব ব্যবসায়ী বাংলাদেশে ব্যবসা করেন তাঁদের অনেকে বাংলাদেশের ব্যাংকিং, শুল্ক এবং কর ব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেন। একই সাথে তাঁরা বাংলাদেশে নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভিসা প্রদান সহজীকরণের জন্য অনুরোধ জ্ঞাপন করেন।
সেমিনারগুলো তুরস্কের ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ্উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি করবে যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করবে। বাংলাদেশ দূতাবাস আঙ্কারা এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ইস্তাম্বুল বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য অনুরূপ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইত্তেফাক/সাব্বির
