আরএমপির এসির ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন

আত্মহত্যা করলেও শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল

আপডেট : ০৫ মে ২০১৭, ১৭:১৭
রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) রাজপাড়া জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজ ওরফে প্রীতমের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। 
 
গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে দাখিল করা হয়। 
 
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে এসি সরফরাজ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার শরীরের একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল; যেগুলোর মধ্যে কয়েকটি ধস্তাধস্তির কারণে হতে পারে। তবে ওইসব আঘাতের চিহ্নগুলো ঘটনার দিনের নয় বলে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 
 
এ প্রসঙ্গে ময়নাতদন্ত বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এমদাদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তা সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজ আত্মহত্যাই করেছেন। এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই। কারণ তার শরীরে আত্মহত্যার সব আলামত উপস্থিত থাকলেও হত্যার কোনো আলামত ছিল না। তার পরও তার শরীরে আমরা কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পেয়েছি। এর মধ্যে দুই হাতের কবজির নিচের কয়েকটি চিহ্ন ধস্তাধস্তির কারণে সৃষ্ট বলে মনে হয়েছে। এছাড়া মৃতের বুকেও একটি আঘাতের চিহ্ন ছিল। ওই চিহ্নগুলো আত্মহত্যার দিনের নয়, দুই-এক দিন আগের চিহ্ন।’ 
 
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা মৃতের শরীরে যা পেয়েছি, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তাই উল্লেখ করেছি। এখন আঘাতের চিহ্নগুলো মৃতের শরীরে কিভাবে এলো, সেটি তদন্তের এখতিয়ার পুলিশের। এখন বিষয়টি যেই পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত করছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো কিভাবে মৃত পুলিশ কর্মকর্তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন এলো, সেটি খুঁজে বের করা। ’
 
এদিকে এসি সরফরাজের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে নগরীর রাজপাড়া থানার ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তো আর সম্পূর্ণ প্রতিবেদন নয়। ভিসেরা ও ব্লাড স্যাম্পলের প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারবো না।’ 
 
অনুসন্ধানে জানা যায়, এসি সরফরাজের আত্মহত্যার কয়েক দিন আগে তার চিকিৎসক স্ত্রী শারমিন সুলতানা সূচনা স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি নগরীর কাজীহাটা এলাকায় চলে যান। সঙ্গে একমাত্র মেয়ে আরিয়ানাকেও নিয়ে যান। তবে আত্মহত্যার আগের দিন বিকেলেও এসি সরফরাজ মেয়ে আরিয়ানাকে দেখতে শ্বশুরের বাসায় যান এবং মেয়ের সঙ্গে কিছু সময় কাটান। মেয়েকে নিয়ে বাইরে ঘুরতেও বের হয়েছিলেন এসি সরফরাজ। 
 
এরপর রাতে নগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশের রাতের অভিযান তদারকি করেন। তদারকি শেষে দেহরক্ষি ও ড্রাইভার নিয়ে শেখপাড়ার বাগান বাড়িতে যান এবং ভোরের দিকে তিনি নগরীর শ্রীরামপুর এলাকার আরএমপির পুলিশ অফিসার্স মেসের কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যা করেন।
 
ইত্তেফাক/ইউবি