ইয়াবা পাচারে রুট বদল, নয়া কৌশল

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৩

রাজধানীর সদরঘাট ও আব্দুল্লাহপুর থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা মূল্যের ৮ লাখ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ তিনজন হলেন তুহিন হোসেন, সবুজ হাওলাদার ও শাহজাহান সরকার। এদের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সদরঘাট থেকে সবুজ ও তুহিনকে আটক করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে শাহজাহানকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। এ চক্রটি মিয়ানমার থেকে মাছের ট্রলার সাজিয়ে দেশে সাগরপথে ইয়াবা আনতো। এরপর তারা নদীপথে ট্রলারে করে পটুয়াখালী থেকে সদরঘাটে এনে ঢাকায় সরবরাহ করতো। তবে এ চক্রের মূল হোতাকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেফতারের জন্য র্যাব অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান গ্রেফতারকৃতদের বরাত দিয়ে জানান, চক্রের সদস্যরা আগে ইয়াবা মিয়ানমার থেকে এনে কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় পাচার করতো। কিন্তু এই রুটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তত্পর হওয়ায় তারা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতেন। এ কারণে তারা নতুন রুট হিসেবে কক্সবাজার থেকে পটুয়াখালী হয়ে চাঁদপুর থেকে সদরঘাটে ইয়াবার চালানগুলো নিয়ে আসা শুরু করে।

তিনি আরো জানান, এই চক্রের তুহিন মূলত বহনের কাজে নানা পরিকল্পনা করতেন। তার সঙ্গে সহযোগিতা করতেন অন্যরা। তারা বিদেশি বিনিয়োগে এ ব্যবসা করছিল। সোমবার মধ্যরাতে নদীপথে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে পটুয়াখালী হয়ে ঢাকা আসবে এমন খবরের পর সদরঘাটে অভিযানে বসে র্যাব। সেখানে আসা সপ্তবর্ণা-১ নামের একটি লঞ্চ থেকে তুহিন ও সবুজকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৫ লাখ ২৫ হাজার এবং পরবর্তীতে আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে শাহজাহানকে ৩ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবাসহ আটক করা হয়।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী অভিযানের কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা রুট পরিবর্তন করেছে। তারা নিত্য নতুন রুট ব্যবহার করে ইয়াবা আনছে। এ কাজে সহায়তা করছে বিদেশি কিছু ব্যক্তি। বিদেশ থেকে এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হচ্ছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আমাদের জানিয়েছে। মূলত ৮-১০ জনের একটি চক্র এই ইয়াবা চালানের সঙ্গে জড়িত। তারা প্রায় দেড় বছর ধরে এই ব্যবসা করে আসছিল। চক্রটি প্রতি ৬-৭ মাস পর পর প্রতি চালানে ৫-৭ লাখ ইয়াবা ঢাকার উদ্দেশে আনতো। এ পর্যন্ত চক্রটি রাজধানীতে ছয় থেকে সাতটি চালান এনেছে বলে জানিয়েছে। তারা রাজধানীর একটি অভিজাত এলাকার বাসায় ইয়াবাগুলো আনার পর তাদের নিজস্ব বাহকের মাধ্যমে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে সরবরাহ করতো।