রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজরিত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর কাছারি বাড়িতে ২৫ বৈশাখ রবীন্দ্র জয়ন্তী পালনের ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন ছাড়াও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনের কর্মসূচি নিয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৯০ সাল থেকে ১৮৯৬ সাল পর্য়ন্ত জমিদারি দেখাশোনার জন্য শাহজাদপুর কাছারি বাড়িতে আসতেন এবং সাময়িকভাবে এখানে বসবাস করতেন। কিন্তু শাহজাদপুর তার এতই ভাল লেগেছিল যে, জমিদারী কাজ ছাড়াও বহুবার তিনি এখানে এসেছেন। রচনা করেছেন গান, কবিতা, ছোট গল্প ও উপন্যাস। তৌজির অন্তর্গত ডিহি শাহজাদপুরের জমিদারী একদা নাটোরের রাণী ভবানীর জমিদারীর একটি অংশ ছিল। ১৮৪০ সালে শাহজাদপুরের জমিদারী নিলামে উঠে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর তা মাত্র ১৩ টাকা ১০ আনায় কিনে নেন। জমিদারীর সাথে সাথে শাহজাদপুর কাছারি বাড়িটিও ঠাকুর পরিবারের হস্তগত হয়।
শাহজাদপুর কাছারি বাড়ি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত একটি দ্বিতল ভবন। ভবনটির দৈর্ঘ্য ২৬ দশমিক ৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০ দশমিক ২০ মিটার এবং উচ্চতায় ৮ দশমিক ৭৪ মিটার । ভবনটির প্রতি তলায় সিঁড়িঘর ব্যতীত বিভিন্ন আকারের মোট সাতটি করে কক্ষ রয়েছে।
ভবনটির উত্তর ও দক্ষিণে একই মাপের প্রশস্ত বাড়ান্দা রয়েছে। বারান্দায় গোলাকৃতির জোড়া মাপের থামের উপরাংশে অলংকরণ, বড় মাপের দরজা, জানালা ও ছাদের উপরের প্যারাপেট দেয়ালে পোড়ামাটির কাজ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। ১৯৬৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর অত্যন্ত জড়াজীর্ণ অবস্থায় ভবনটিকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসাবে ঘোষণা করে। একতলা দোতলার ছাদ পুনঃনির্মাণসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে ভবনটি রবীন্দ্র জীবনভিত্তিক আলোকচিত্র ও এ বাড়িতে প্রাপ্ত আসবাবপত্র নিয়ে একটি স্মৃতি জাদুঘরের রুপ দেয়া হয়েছে। এই জাদুঘরের আসবাবপত্র সবই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহার্য। আছে কবি গুরুর পিয়ানো, পাল্কি, খাট, পালং, চেয়ার, টেবিল ইত্যাদি। রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি প্রঙ্গণে তৈরি করা হয়েছে অডিটরিয়াম, সেখানে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের দপ্তর। রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি স্মৃতি জাদুঘরে প্রতিদিন শতশত দেশি বিদেশি দর্শনার্থী আসেন।
ইত্তেফাক/পাভেল
