নৌপথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারী শরণার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যাই এখন সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে নানা উপায়ে ইউরোপের উপকূলে কমপক্ষে ২ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি আশ্রয় নেওয়ার জন্য ছুটে গেছেন।
এদের বেশির ভাগই গেছেন ভূমধ্যসাগরের উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। যুক্তরাজ্যের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকার এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের প্রথম তিন মাসে ইতালিতে প্রবেশকারী বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল মাত্র ১ জন। কিন্তু চলতি বছরের একই সময়ে বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সংখ্যা সব দেশকে ছাড়িয়ে গেছে। আইওএমের ফ্লাভিও ডা গিয়াকোমো বলেন, এ বছরের প্রথম তিন মাসে ২ হাজার ৮৩১ জন ইতালিতে আশ্রয় চেয়েছে। অভিবাসীদের জাতীয়তা সত্যিই পরিবর্তিত হচ্ছে। আর সেটা বাংলাদেশ থেকেই আসছে।
লিবিয়ায় সক্রিয় পাচারকারীরা তাদের অশুভ তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। তাদের চোখ এখন এশিয়ায়। জীবন বাজি রেখে এভাবে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর আগে যাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে তারা বলেছেন, ঢাকা থেকে দুবাই অথবা তুরস্ক হয়ে লিবিয়া যাওয়ার জন্য তাদের প্রত্যেকে দালালদের দিয়েছে ১০ হাজার ডলার করে।
সিরিয়া, ইয়েমেনে সংঘাতের পর বিশ্বে শরণার্থী সঙ্কট নতুন রূপ নিয়েছে। গত চার বছরে জীবন বাজি রেখে সমুদ্রপথে শিশু, নারী, পুরুষ পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করেছে ইউরোপসহ উন্নত দেশগুলোতে। এখন পর্যন্ত এমন শরণার্থীর মধ্যে সিরিয়ার নাগরিকরাই বেশি ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ এখন সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, ইরিত্রিয়া, সাব সাহারান আফ্রিকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/সাব্বির
