ভারতে প্রাচীনতম দল কংগ্রেস আগামী লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে। গতকাল মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে এই ইশতেহার প্রকাশ করেন কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। ইশতেহারে কৃষকদের উন্নয়ন, সরকারি শূণ্যপদে চাকরি, পররাষ্ট্র নীতি, নিরাপত্তা, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নতির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এই ইশতেহারকে ‘বিপজ্জনক ও অবাস্তবায়নযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে আজ জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ইশতেহারকে ‘ওয়েল অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার’ উল্লেখ করে কংগ্রেস জানিয়েছে, নির্বাচনে জয় পেলে আগামী মার্চের মধ্যে ২২ লাখ সরকারি শূন্যপদে চাকরি, বছরে কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ৭২ হাজার রূপি প্রদান এবং ঋণের দায়ে কোনো কৃষককে জেলে যেতে হবে না। সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন দলের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী। সাইবার, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেবে কংগ্রেস। পররাষ্ট্র নীতির জন্য জাতীয় পরিষদ গঠন করার অঙ্গীকার করে কংগ্রেস বলেছে, তারা ক্ষমতায় আসলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এবং নিউক্লিয়ারস সাপ্লাইয়ারস গ্রুপের স্থায়ী সদস্য হতে জোর তত্পরতা চালানো হবে।
নারীদের ক্ষমতায়নে লোকসভা ও রাজ্যের পার্লামেন্টে নারীদের জন্য ৩৩ ভাগ কোটা সংরক্ষণ করা হবে বলে কংগ্রেস জানিয়েছে। অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও মা সোনিয়া গান্ধী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের উপস্থিতিতে রাহুল গান্ধী অঙ্গীকার করেছেন, ক্ষমতায় আসলে জিএসপি ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের জিএসটিকে ‘গব্বর সিংহ ট্যাক্স’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, জিএসটিতে বর্তমানে চালু পাঁচটি স্তরকে একটি স্তরে নিয়ে আসা হবে এবং সেই স্তরে করের হারও কমানো হবে। দেশের গড় জাতীয় উত্পাদনের ছয় ভাগ শিক্ষাক্ষেত্রে বরাদ্দ করার অঙ্গীকার করেন কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট। বিজেপি সরকারের গত ৫ বছরে রাফালসহ বিভিন্ন চুক্তির তদন্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দলটি জানিয়েছে, দুর্নীতর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি কংগ্রেসের ইশতেহারের কড়া সমালোচনা করে এটাকে ‘বিপজ্জনক প্রতিশ্রুতি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের নীতিহীন সিদ্ধান্তের মাশুল গুনছে জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষ। কংগ্রেস তার ইশতেহারে অস্ত্র আইন সংশোধনের কথা বলছে যা দেশের পক্ষে মারাত্মক সিদ্ধান্ত হবে। জেটলি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি সরকারের আমলে মাওবাদী উপদ্রব ও জঙ্গি হামলা কমেছে। তার প্রশ্ন ইশতেহারে কাশ্মিরী পন্ডিতদের নিয়ে কেন কথা বলা হয়নি?
আজ পশ্চিমবঙ্গে মোদি-মমতার বাকযুদ্ধ
রাজনীতির ময়দানে দুজনেই প্রতিপক্ষ। একে অপরকে এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে রাজি নন। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফের দু’জনের দ্বৈরথ দেখা যাবে আজ বুধবার। দুপুরে শিলিগুড়ি এবং কলকাতায় নির্বাচনী সভা করবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রশ্ন তুলবেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাফল্য ও ব্যর্থতার খতিয়ান নিয়ে। জবাব দিতে তৈরি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি কোচবিহারের দিনহাটায় সভা করবেন এবং জবাব দেবেন মোদির প্রশ্নের, হবে বাকযুদ্ধ। হিসেব কষেই তাই নিজের সভার সময় বেছে নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদির সভা শেষ হওয়ার পর।
