‘ট্রাম্পের ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী কর্মকাণ্ড আমেরিকাকে পেছনে ফেলে দেবে’

আপডেট : ০৮ মে ২০১৭, ১৪:৩৩
 
মার্কিন কংগ্রেসওম্যান এবং মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ বিষয়ক কংগ্রেসনাল কমিটির কো-চেয়ারপারসন গ্রেস মেং বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অসাধু পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি আমেরিকার মূল্যবোধকে পাশ কাটিয়ে ইমিগ্রেশন নীতির পরিবর্তন আনতে চাইছেন। তিনি বলেন, ইমিগ্র্যান্টরাই আমেরিকার মূল চালিকাশক্তি। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একের পর এক ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা আমেরিকাকে পেছনে ফেলে দেবে। 
 
ট্রাম্পের এই ভ্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গ্রেস মেং। 
 
স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের এলমহার্স্টের অভিজাত লাগোর্ডিয়া প্লাজা হোটেলে বাংলাদেশি আমেরিকান সাংবাদিকদের সংগঠন আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) নবনির্বাচিত কমিটির (২০১৭-২০১৮) অভিষেক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন গ্রেস মেং।
 
IMG0
 
অনুষ্ঠানে গ্রেস মেং বাংলাদেশের উন্নতি কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের পোশাক বিশ্ববাজারে বিশাল স্থান দখল করে নিয়েছে। তিনি বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের উন্নয়নে মার্কিন কংগ্রেসে সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার অর্থ বরাদ্দ ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন। 
 
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের প্রধান রোকেয়া হায়দার, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস-এর দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক কর্মকর্তা আলিয়া ইফতিখার, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, রাজনীতিবিদ ড. সিদ্দিকুর রহমান, মূলধারার রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বাদল, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিজাম চৌধুরী, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) নূরে এলাহী মিনা, তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আবু বকর হানিপ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুল কাদের মিয়া, বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোডের সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি লাবলু আনসার, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, অভিষেক উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি মীর ই ওয়াজিদ শিবলী প্রমুখ। 
 
এর আগে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের অনুষ্ঠানে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা হলেন, সভাপতি লাবলু আনসার, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মীর ই ওয়াজিদ শিবলী, যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল কাশেম, কার্যকরী সদস্য আশরাফুল হাসান বুলবুল, নিহার সিদ্দিকী, কানু দত্ত ও আজিম উদ্দিন অভি।
 
অনুষ্ঠানে আমেরিকা বাংলাদেশের প্রেসক্লাবের সভাপতি লাবলু আনসার ও সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের হাতে প্রোক্লেমেশন তুলে দেন গ্রেস মেং। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেটের পক্ষ থেকেও আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবকে প্রোক্লেমেশন প্রদান করা হয়। কংগ্রেসম্যান জোসেফ ক্রাউলির পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন এবং আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবকে কংগ্রেশনাল অ্যাওয়ার্ড প্রদারন করা হয়। 
 
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অভিষেক কমিটির সদস্য সচিব মিজানুর রহমানের পরিচালনায় এবং শারমিন রেজার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে বেহালার সূরে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন নিউইয়র্কের সঙ্গীত পরিষদের শিল্পী শ্রুতিকণা দাস। 
 
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে আজীবন সম্মাননা জানানো হয়, আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাঈদ-উর-রবকে। তার হাতে আজীবন সম্মাননা স্মারক তুলে দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন। 
 
অভিষেক উপলক্ষে ‘অবিচল’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ। আনুষ্ঠানিকভাবে স্মরণিকার মোড়ক উম্মোচন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। 
 
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের (এবিপিসি) নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের অভিভনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। 
 
রবিবার পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের নতুন নেতৃত্ব আমেরিকা ও বাংলাদেশের মধ্যেম সেতুবন্ধন রচনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি তার প্রবাসে বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরবেন। 
 
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তা পড়ে শোনান, নবনির্বাচিত কার্যকরী সদস্য আশরাফুল হাসান বুলবুল। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন নৃত্যাঞ্জলি শিল্পীগোষ্ঠী। 
 
এছাড়া সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় শিল্পী সেলিম চৌধুরী, নিউইয়র্কের জনপ্রিয় শিল্পী কৃষ্ণা তিথি, শাহ মাহবুব ও রোখসানা মির্জা।
 
মার্কিন মূলধারা ও বাংলাদেশি কমিউনিটির তিনশতাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। 
 
ইত্তেফাক/কেকে