খুলনায় ঠিকাদার বালা হতাকাণ্ড

রিমান্ডে মুখ খুলছেন প্রধান আসামি সাবিহা

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৯

খুলনায় ঠিকাদার মিজানুর রহমান বালার আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি নিহত বালা’র ছোট ভাই মেজবাহ হোসেন বুরুজের স্ত্রী সাবিহা খাতুন শিপু। এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গতকাল আরো ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। অন্য চার আসামির রিমান্ড আজ বুধবার শেষ হচ্ছে। তারাও জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, আসামি সাবিহার সহযোগীরা বিভিন্নভাবে বালার স্ত্রী-সন্তানদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বেশি ‘বাড়াবাড়ি’ করলে তাদের পরিণতিও বালা’র মতো হবে এমন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। রিমান্ডে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সাবিহা মুখ খুলতে শুরু করলেও তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ।

অন্যদিকে, এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিপ্লব   কান্তি দাসকে আসামি পক্ষের সঙ্গে ‘অর্থসংক্রান্ত’ সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তার বিরুদ্ধে অনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। রিমান্ডের এক আসামীর ব্যক্তিগত ফোনে বাইরে আলাপ করার অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বালার সেজো ভাই আব্দুর রশিদ গিরু। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে খুলনা থানার সেকেন্ড অফিসার মো. ইকবাল হোসেনকে।

নিহতের পরিবার, মামলা ও পুলিশসূত্র জানায়, বালার ছোটভাই এসএম মেজবাহ হোসেন বুরুজ ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনার প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। বুরুজের সকল ঠিকাদারি ব্যবসা দেখাশোনা করতেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা বালা। ২০১৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর বুরুজ মারা যান। এরপর বুরুজের স্ত্রী সাবিহার সঙ্গেও ব্যবসা দেখাশোনা করতেন বালা।

জানা গেছে, কিছুদিন পর ব্যবসা নিয়ে সাবিহার সঙ্গে বালার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এছাড়া সাবিহার উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন ও অকারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়ায় তার সঙ্গে বালা’র দ্বন্দ্ব বৃদ্ধি পায়। সম্প্রতি বুরুজের কয়েকশ’ কোটি টাকার একটি ঠিকাদারি কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে আসে। এই টাকার বড় একটি লভ্যাংশ পাবার কথা ছিল বালার। কিন্তু সেই লভ্যাংশ দিতে অস্বীকার করেন সাবিহা। এমনকি বালা’র কাছ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ধার নিয়েও তিনি তা দিতে টালবাহানা করেন।

এরপর থেকেই অব্যাহতভাবে সাবিহা ও তার সহযোগীরা বালাকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর বালা’র ওপর হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির ও মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, রিমান্ডে সাবিহা ও তার সহযোগীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু আইনগত কারণে এই মুহূর্তে তা পুরোপুরি জানানো সম্ভব হয়নি। ওসি বলেন, মামলাটি অধিক তদন্তের স্বার্থে সাবিহাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আমরা অপরাধীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনব। বালার মেজো ভাইয়ের ছেলে মো. শামীম অভিযোগ করেন, সাবিহা গ্রেফতার হলেও অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সৈয়দ মোরশেদ মোহনসহ তার সহযোগীরা এখনো তত্পর রয়েছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরিণতি বালা’র মতই হবে বলেও তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। আমরা জিডি করব।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ রাত ৯টার দিকে ঠিকাদার মিজানুর রহমান বালা বাসায় ফেরার পথে নগরীর রায়পাড়া রোডস্থ দারুল উলুম মাদ্রাসার পূর্ব পাশে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার রিকশার গতিরোধ করে ধারালো ছুরি দিয়ে তার পেটে উপর্যুপরি আঘাত করে। হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বালা’র স্ত্রী ছাহেরা খাতুন বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখ করে খুলনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলেন, সাবিহা খাতুন, বুরুজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী সজিব হাসান সাথী, বুরুজের দেহরক্ষী মোস্তফা সরদার সোনা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মচারী ফয়সাল ও মাসুদ। ৫ আসামিকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।