বরিশালের গৌরনদীতে দাবীকৃত তিন লাখ টাকা উৎকোচ না দেওয়ায় মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতারের পর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় গৌরনদী থানার এক এএসআই'কে ক্লোজড করা হয়েছে।
জানা গেছে, দেড়মাস আগে কাতার ফেরত গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ইল্লা গ্রামের মোসলেম সরদারের ছেলে মনির সরদারকে (২২) গত মঙ্গলবার থানায় ধরে নিয়ে নির্যাতন করে হাত ভেঙ্গে দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে গোপনে চিকিৎসা করিয়ে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরের দুই বোন শিল্পী বেগম ও ইয়াসমিন বেগম।
মনিরের বাবা মোসলেম সরদার জানান, মনির বিদেশ যাওয়ার পর স্থানীয় প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রে ২০১৪ সালের ২০ জুলাই থানা পুলিশ উদ্দেশ্যমুলকভাবে তার ছেলে মনিরকে একটি মাদক মামলায় আসামি করে। মনিরের বোন শিল্পী বেগম জানান, তার ভাই দেড়মাস আগে দেশে ফিরে আসে। খবর পেয়ে গৌরনদী থানার এএসআই মো. মহিউদ্দিন পুরনো মিথ্যা মাদক মামলার ওয়ারেন্ট দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে মনিরকে কালকিনি উপজেলার খাসেরহাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর থানায় নিয়ে তার কাছে তিন লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করেন ওই এএসআই। দাবীকৃত টাকা না দিলে ৫০০পিস ইয়াবা দিয়ে আরেকটি নতুন মামলায় তাকে আদালতে চালান দেয়ার হুমকি দিয়ে মনিরকে থানায় অকথ্য নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরের আরেক বোন ইয়াসমিন বেগম।
নির্যাতনে তার হাত ভেঙ্গে যায়। এরপর তাকে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে ওই রাতে তাকে জেলা পুলিশ হাসপাতালে গোপনে চিকিৎসা করিয়ে বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে অভিযোগ করেন মনিরের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে আসামি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে গৌরনদী মডেল থানার এএসআই মো. মহিউদ্দিন বলেন, 'মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মনির সরদারকে গ্রেফতার করে আমি থানায় নিয়ে এসেছি। এরপর কি হয়েছে আমি তা কিছুই জানি না।'
গৌরনদী মডেল থানার ওসি ফিরোজ কবির বলেন, 'মনিরকে ভূরঘাটা থেকে গ্রেফতারের সময় সে পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়। এ সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে মনির পড়ে গিয়ে তার হাতে ব্যথা পায়। তারপরও মনিরের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এএসআই মহিউদ্দিনকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।'
ইত্তেফাক/জামান
