ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন এক হাজার কোটি টাকা করা হবে :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:২৩

ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৪শ’ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার কোটি টাকা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সরকারি ব্যাংকগুলোর  জন্য এর পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ব্যাংক বন্ধ হলেও যেন গ্রাহকেরা ক্ষতিতে না পড়েন সে জন্য এ ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি বীমা কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার শেরে বাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক বন্ধ হলেও গ্রাহকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেই জন্য এক হাজার কোটি টাকা লাগবে নতুন ব্যাংক অনুমোদন নিতে। এই টাকা সরকারের কাছে থাকবে, ব্যাংক বন্ধ হলেও যেন গ্রাহকেরা ক্ষতিতে না পড়েন। উল্লেখ্য, বর্তমানে ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন চারশ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী হয় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। পুঁজিবাজারের সার্বিক বিষয় জানতে এবং পর্যবেক্ষণে রাখতে প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।

বীমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের দেশে বীমার আওতা সম্প্রসারিত হয়নি। দেশের সব মানুষকে বীমার সুবিধার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আরো জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ  ও পদ্মা সেতুর মতো যে সব বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে সেগুলোর বীমা করা হয় না। এগুলো আমাদের সম্পদ। কিন্তু এগুলো কোনো কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুষিয়ে নেওয়ার উপায় নেই। তাই এগুলো বীমার আওতায় আনতে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, কর হার বাড়বে না। করের আওতা বাড়িয়ে আরো বেশি রাজস্ব আহরণ করতে হবে। আমাদের চাহিদা দিন বাড়ছে। আগামী অর্থবছরে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। রাজস্ব আহরণ সক্ষমতা বাড়াতে এনবিআরএ ব্যাপক সংস্কার আনা হবে। নতুন ভ্যাট আইন চালু হলে বিভিন্ন ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানে ইসিআর মেশিন বসানো হবে। এগুলো তদারকি করতে নতুন জনবল লাগবে। আগামী ১৮ মাসে কেবল এনবিআরেই ৭০ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যাংক বন্ধ হয় ব্যবস্থাপনা

ত্রুটির কারণে

‘টাকার অভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় না। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয় তার ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণে।’ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার ত্রুটি দূর করার পরামর্শ দিতে গিয়ে একথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে পদ্মা ব্যাংকের প্রথম বার্ষিক ব্যবসায়ীক সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালাতে টাকার প্রয়োজন হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যাংকের পুরো ব্যবস্থাপনাকে সংস্কার করা হয়েছে। একটি দক্ষ টিম এর দায়িত্ব নিয়েছে। আশা করছি এটি দীর্ঘ মেয়াদে ভালো করবে।

অনুষ্ঠানে পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে গভর্নর ফজলে কবির বলেন, আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ করা যাবে না। ঋণ আদায়ে মনোযোগী হতে হবে। বড় অঙ্কের ঋণে না ঝুঁকে ক্ষুদ্র ঋণের দিকে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান গভর্নর।