সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে জেলার নাগরপুরে গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করার কারণে কাজ শেষ হতে না হতেই গাইড ওয়ালে ভয়াবহ ফাটল ধরেছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সোমবার রাতে তেবাড়িয়া ঘুণিপাড়া সড়কে নির্মাণাধীন গাইড ওয়ালে এ ফাটল ধরে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধানে জেলায় নাগরপুর উপজেলার তেবাড়িয়া বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে ঘুণিপাড়া কবরস্থান পর্যন্ত ১২শ মিটার গাইড ওয়াল নির্মাণ করতে মেসার্স এইচ ট্রেডিং করপোরেশনকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ৯ কোটি টাকা। কার্যাদেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রকল্পের কাজ আংশিক হওয়ার পর অবশিষ্ট কাজ চলমান অবস্থায় গাইড ওয়ালের মাঝে ভয়াবহ ফাটল ধরেছে। ফলে কাজের মান নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় শামসুল আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. হাসান মিয়া মো. মজিদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দরপত্রের শর্তাবলীর তোয়াক্কা না করে ঠিকাদার তার ইচ্ছা মাফিক ও মনগড়াভাবে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করেছে। এ কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই গাইড ওয়ালে ফাটল ধরেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে নিম্নমানের কাজ করে নিজের পকেট ভারি করেছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এইচ ট্রেডিং করপোরেশনের কর্মাধ্যক্ষ মনোরাজ জানান, গাইড ওয়ালের নিচে মাটি কাটার কারণে ফাটল ধরেছে। তাই দেয়ালটি ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হবে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এসইও মো. এনামুল কবিরের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো প্রকার তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তিনি সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ারের (এসডিই) সঙ্গে এ প্রতিবেদককে কথা বলার পরামর্শ দেন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার (এসডিই) মো. আব্দুল হাকিমের সঙ্গে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/নূহু
