থাপ্পড়ের অভিযোগে মেয়র ও প্রকৌশলীর পরস্পরবিরোধী বক্তব্য

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৩০

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশকে চট্টগ্রামের মেয়র থাপ্পড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। তবে এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান পলাশ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন।

গত সোমবার সন্ধ্যায় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ছয়জন প্রকৌশলীর সাথে বড়পোল এলাকার রাস্তা সম্প্রসারণ নিয়ে মেয়রের কার্যালয়ে আলোচনা হয়। এ সময় গণপূর্তের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পলাশকে মেয়র থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ করছেন গণপূর্তের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ইত্তেফাককে বলেন, থাপ্পড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে সে (প্রকৌশলী) বেয়াদবি করেছে, উদ্ধত আচরণ করেছে, এ জন্য কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। আসল কথা হচ্ছে ওই প্রকৌশলী ওই জায়গায় গৃহায়নের জায়গায় বসা অবৈধ বাজার থেকে টাকা পেত। এখন রাস্তা সম্প্রসারণ করলে বাজার উঠে যাবে। সে জন্য তাদের সমস্যা হচ্ছে।

যদিও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শামসুল আলম ইত্তেফাককে বলেছেন, আমি চেয়ারে থেকে বেশিকিছু বলতে পারি না। তবে এটুকু বলব- সেখানে যা হয়েছে সেটা গ্রহণযোগ্য ছিল না। আমরা কর্মবিরতি পালন করেছি। আমরা ইতোমধ্যে গৃহায়নের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি মন্ত্রীকে জানিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও গৃহায়ন সূত্র জানিয়েছে, নগরীর হালিশহরে পোর্ট কানেকটিং সড়কে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ সংস্কারের কাজ করছে চসিক। হালিশহরের বরফকল এলাকায় ড্রেনসহ সড়ক সোজা করতে গিয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রায় ৫০ ফুট (১২ শতক) জায়গা দখলে নিয়েছে চসিক। এ নিয়েই মূলত চসিকের সঙ্গে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. শামসুল আলমের নেতৃত্বে ছয় জনের একটি টিম মেয়রের কার্যালয়ে যান। ওই টিমে ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান পলাশও।

সোমবার রাতের ঘটনার বিষয়ে মেয়র বলেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী উপস্থিত থাকাবস্থায় সে (পলাশ) কেন কথা বলবে? সে তো কথা বলতে পারে না।

এ সময় মেয়র ২০১০ সালের গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চট্টগ্রাম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সই করা একটি চিঠির কপি দেখিয়ে বলেন, বড় পোল রাস্তা সংলগ্ন পরিত্যক্ত স্থানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাঁচাবাজার বসানোর আবেদন করে তারা অনুমোদন পায়নি। কিন্তু ঝুপড়ি টাইপের কাঁচাবাজার চলেই আসছে। মেয়র বলেন, ওই এলাকার কিছু লোকের শঙ্কা ড্রেন যদি সোজা না হয় তবে আসন্ন বর্ষায় পানি উঠবে। গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বাধা দেওয়ায় নালাটি করা যাচ্ছে না। আমি বলি, নালা তো করতেই হবে। সোমবার কাজ ধরার পর আবার বাধা দেয়। তখন আমি সন্ধ্যার পর আসতে বলি আলোচনার জন্য। আলোচনার একপর্যায়ে পেছন থেকে একজন (পলাশ) বলে, ১২০ ফুট জায়গা হস্তান্তর করা হয়েছে চসিককে। এর বাইরে চসিক আসতে পারবে না। তখন আমি বুঝিয়ে বলি, সে তখন বলে চসিকের জায়গা হকাররা দখল করে আছে। তখন আমি বলি, যেটি জিজ্ঞেস করা হচ্ছে সেটি বলবেন। আপনারা বেয়াদবি করার দুঃসাহস কোত্থেকে পেলেন। এটাই ঘটনা। আসল কথা হচ্ছে বাজার তুলে দেওয়ায় তাদের সমস্যা। ওই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগসহ যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মেয়র।

গতকাল বিকালে এ বিষয়ে জানতে আশরাফুজ্জামান পলাশ বলেন, ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশেই আমি মেয়রকে বিষয়টি বোঝাতে চেয়েছিলাম। একপর্যায়ে তিনি বলেন, গণপূর্তের অনেক জমি দখল হয়ে আছে। তখন আমি চসিকের ফুটপাতও দখল হয়ে থাকে বলি। তখনই মেয়র উত্তেজিত হয়ে আমাকে থাপ্পড় দেন। কাউন্সিলর গোলাম মোহাম্মদ জোবায়ের আমার উপর হামলে পড়েন।

গতকাল দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রকৌশলীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ইয়ং ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম নামের একটি সংগঠন মানববন্ধন করেছে। এদিকে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী গতকাল কর্মবিরতি পালন করেছে। আজ বুধবারও কর্মবিরতি পালন করা হবে বলে জানা গেছে। চট্টগ্রামসহ সারাদেশের গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের অফিস প্রাঙ্গণে ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিবেন।