কিশোরগঞ্জে লিচুর বাম্পার ফলন, লিচু চাষীর মুখে হাসি

আপডেট : ১৪ মে ২০১৭, ১৫:০৩
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু। লিচু বিক্রি করে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছে লিচু চাষীরা। আর এসব লিচু আড়ৎদার ও খুচরা পাইকারের মাধ্যমে স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে লিচু চাষের আগ্রহ বাড়ছে।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারে উপজেলার কালিকাপুর, নিতাই, চাঁদখানা, উত্তর দুরাকুটি, বড়ভিটা, রণচণ্ডী, মাগুড়া, গাড়াগ্রাম ও কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে লিচুর চাষ হয়েছে। গত বছর ২৯ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়। দাম ও ফলন ভাল পাওয়ায় এ বছর তা’বেড়ে ৩১ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, লিচু চাষীর সংখ্যা প্রায় ২০০ জন। এবারে ৩১ হেক্টর জমিতে ১৮০ মেট্রিক টন লিচুর ফলন হবে। যার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। দেশি জাতের পাশাপাশি বোম্বাই ও চায়না থ্রি বাগান গড়ে উঠেছে। দেশি জাতের লিচু পাকছে। গাছে গাছে ঝুলছে পাকা লিচু। যা দেখলে সকলের মন জুড়িয়ে যায়। বাজারে ব্যাপকভাবে পাকা লিচু উঠেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় লিচু বিক্রি হচ্ছে। বোম্বাই ও চায়না-২ জাতের লিচু আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে বাজারে আসবে। সেগুলো পাকার অপেক্ষায় রয়েছে। রং ধরেছে। দেশি লিচুর স্বাদ ভাল হওয়ায় কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছে। লিচু বাগানে বর্তমানে লিচু পাড়া, গুচ্ছ তৈরি ও খাঁচা ভর্তি করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চালান দেওয়া হচ্ছে। আর এ লিচু বাজারজাত করতে খাঁচা তৈরি, গুচ্ছ তৈরি ও অন্যান্য কাজে বেকার নারী ও পুরুষের মৌসুমী কর্মসংস্থান হয়েছে। লিচুর গাছ পাহারা, গাছ পরিচর্যা, লিচু পাড়া, থলি করাসহ বিভিন্ন কাজ করে বেকার নারী পুরুষেরা দৈনিক ২/৩ শত টাকা আয় করছে। এছাড়াও লিচু বিক্রি করে কৃষকেরা স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকরাও লাভবান হচ্ছে। লিচু চাষে লাভ বেশি ও চাহিদা বেশি থাকাসহ বাজারজাত সমস্যা না থাকায় উপজেলায় দিনদিন লিচু চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে। 
 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, এ উপজেলার ভূমি লিচু চাষের উপযোগী। এবারে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/এমআই