প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) নীল দলের দুই প্যানেল এক্যবদ্ধ হচ্ছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বেলা ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত এক দীর্ঘ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আগামী ২২মে সিনেট শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য বলেন। এতে উভয় প্যানেল সম্মত হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
দুই প্যানেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, নীল দলের মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের ১৪জন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ।
মাকসুদ কামাল প্যানেলের একজন ইত্তেফাককে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সকল ভেদাভেদ ভুলে নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজকরার জন্য বলেছেন। এতে আমরা সম্মত হয়েছি। নীল দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক নাজমা শাহীন প্যানেলের প্রার্থী অধ্যাপক এ জে এম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, আমরা সব সময় ঐক্যবদ্ধ ছিলাম। মধ্যখানে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। এখন আমরা আবার ঐক্যবদ্ধ।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে নির্বাচনী আচরণ-বিধি (১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশ) ভঙ্গের দায়ে নীল দলের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামালের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের প্রার্থী তা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে কমিশন নীলদলের আহ্বায়ক কমিটি এবং সাদা দলের নির্বাচনের ৬৯জন প্রার্থীর নাম, ব্যালট নম্বর তালিকা চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করে। ৬৯জন প্রার্থীর মধ্যে নীলদলের আহ্বায়ক কমিটির ৩৪ জনপ্রার্থী ও সাদা দলের ৩৫জন প্রার্থী।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্ববিদ্যালয় কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন বলেন, '১৯৭৩ অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গ করায় স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। নীল দলের আহ্বায়ক কমিটি থেকে নীল কাগজ স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছে এমন অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। আমি দুদিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে গিয়ে স্বতন্ত্র দলের নীল কাগজ ব্যবহার পেয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'সেই অনুযায়ী ১৪মে সকালে তিন প্যানেলের প্রতিনিধিদের নীল দলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়ক, সাদা দলের আহ্বায়ক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মিটিংয়ে স্বতন্ত্র প্যানেলকে নীল, সাদা ও গোলাপীবাদে অন্য রঙে কাগজ ব্যবহার করতে বলা হয়েছিল এবং কি কাগজ ব্যবহার করবে তার একটি লিখিতপত্র দিতে বলাও হয়েছিল কিন্তু তারা তা দেয়নি।' নির্ধারিত সময়ে বাইরে গিয়ে ১১মে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে নীল দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ বলেন, 'প্রার্থিতা বাতিল করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি বাংলাদেশের যেকোনো নির্বাচনের মৌলিক রীতি-নীতি বিরোধী।' আইনগতভাবে মোকাবেলার সুযোগ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো।'
ইত্তেফাক/জামান
