থমকে দাঁড়িয়েছে বেরোবির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজ

আপডেট : ১৬ মে ২০১৭, ২২:১৭
 
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পরিচালকের পদশূন্য থাকায় বিভাগগুলোর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিভাগীয় প্রধানরা। বিদায়ী উপাচার্য ড. একে এম নুর-উন-নবী ঐ পদের দায়িত্বে থাকায় তার মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে পদটি শূন্য হয়।
 
চূড়ান্ত ফল এর অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ, অর্থনীতিসহ অধিকাংশ বিভাগের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থীরা অতিদ্রুত সময়ে ফলাফল না পেলে চলমান বিভিন্ন চাকরির জন্য আবেদন করতে পারছেন না বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার জন্য অপেক্ষমাণ বিজ্ঞপ্তিতে আবেদন করার ব্যাপারেও আশঙ্কা করছেন।
 
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রক্টর নেই প্রায় তিন বছর থেকে, স্থায়ী রেজিস্ট্রার নেই প্রায় চার বছর থেকে, ট্রেজারার নেই দীর্ঘ দিন থেকে, উপ-উপাচার্য নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই। এছাড়াও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পরিচালক নেই দীর্ঘদিন থেকে ( অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোরশেদ হোসেন দুই বছর পূর্বে এর দায়িত্বে ছিলেন মাত্র)। বর্তমান রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইব্রাহীম কবীরকে অস্থায়ীভাবে (চুক্তিভিত্তিক) নিয়োগ দিলেও এ বছরের ডিসেম্বরে তার মেয়াদ শেষ হবে বলে জানা গেছে।
 
এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. আবু সালেহ মোহাম্মদ ওয়াদুদুর রহমান বলেন, 'অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সাথে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার নিয়োগ প্রদান জরুরী। কারণ উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য রয়েছে যার কারণে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দিনে দিনে যার ব্যাপকতা বর্তমানে আরো বাড়ছে।'
 
শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাঁর আঁকড়ে ধরা পদসহ অধিকাংশ পদ এখন শূন্য। এই পদগুলো শূন্য থাকায় এবং উপাচার্য ঐ সব পদগুলো দখল করে থাকায় বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে একাডেমিকভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সে জন্য। সুতরাং এক সঙ্গে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার নিয়োগদানের জন্য রাষ্ট্রপতির সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং এমন একজন উপাচার্যকে আমরা চাই যিনি একজন ভালো মানুষ হবেন এবং শূন্য পদগুলো পূরণে উদ্যোগী হবেন।
 
দ্রুত উপাচার্যসহ উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার(কোষাধ্যক্ষ) নিয়োগ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সুশীল সমাজের মানুষেরা। উপাচার্য ছাড়া  নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে পুরো ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী প্রক্টর শফিক আশরাফ বলেন, এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বড় ধরণের ঘটনা ঘটলে তা ব্যাক আপ (সমাধান) দিবে কে? কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে তো অভিভাবক নেই। সুতরাং নিরাপত্তার প্রয়োজনে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ প্রদান জরুরী।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পর্যন্ত কোনো বিধি- প্রো-বিধি তৈরি হয়নি। সাবেক উপাচার্য তার ইচ্ছেমত পদ দখল করে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ করে চালিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং এমন একজন উপাচার্য চাই যিনি এসে বিধি-প্রো-বিধি তৈরি এবং সে অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে যাবতীয় সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিবেন।
 
ইত্তেফাক/জামান