বিশ্বরেকর্ডে উদ্ভাসিত নাঈম হাসান

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০১৮, ২২:৩৬

এখনও বয়স ১৮ স্পর্শ করেনি। মাত্র কয়েকদিন আগেই যুব বিশ্বকাপ খেলে এসেছেন। এই অবস্থায় জাতীয় দলের স্বপ্নও দেখে না অনেকে। কিন্তু এই বয়সেই নাঈমের টেস্ট অভিষেক হয়ে গেলো। আর অভিষেকেই টেস্ট ক্রিকেটের রেকর্ড বই নাড়াচাড়া করে ফেললেন চট্টগ্রামের এই কিশোর।

গতকাল মাত্র ১৭ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সে খেলতে নেমেছিলেন টেস্ট। আর প্রথম টেস্টে নিজের প্রথম ইনিংসেই তুলে নিলেন ৫ উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সকে ছাড়িয়ে বিশ্বের কনিষ্ঠতম বোলার হিসেবে অভিষেকে ৫ উইকেট শিকারের রেকর্ড করলেন নাঈম হাসান।

নাঈমের এই রেকর্ড করা অভিষেকের দিনটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য খুব সুখের হয়নি। প্রথম ইনিংসে নাঈম-সাকিবদের কল্যাণে ৭৮ রানের লিড পেয়েছিল সাকিবের দল। কিন্তু বিকেল বেলায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৫ রান তুলতে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। ফলে ৫ উইকেট হাতে নিয়ে এখন বাংলাদেশের লিড মাত্র ১৩৩ রানের।

৮ উইকেটে ৩১৫ রান নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। উইকেটে ছিলেন পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি করা নাঈম ও তাইজুল ইসলাম। এই বাকী দুই উইকেটে আর খুব বেশিদূর যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ২৬ রান করে আউট হন নাঈম। কোনো রান না করে ফেরেন মুস্তাফিজ। অন্য দিকে ৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন তাইজুল ইসলাম।

৭৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ দারুণ বোলিং করে। তিন মাস পর ক্রিকেটে ফিরে প্রথম বলেই উইকেট নেন সাকিব আল হাসান। এরপর ওই ওভারে নেন আরো এক উইকেট। কিন্তু দিনটা তারপরও সাকিবের নয়। এই দিনটাকে নিজের করে নেন অভিষিক্ত নাঈম। একে একে তুলে নেন তিনি ওয়েস্টইন্ডিজের ৫ উইকেট। ফলে পেছনে ফেলে দেন অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্সকে।

২০১১ সালে ১৮ বছর ৬ মাস ৯ দিন বয়সে নিজের অভিষেকে ৭৯ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার প্যাট কামিন্স। এতদিন ধরে এটিই ছিল সবচেয়ে কম বয়সে অভিষেকে পাঁচ কিংবা তার বেশি উইকেট নেয়ার রেকর্ড।

অভিষেকে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়লেও, অল্পের জন্য সবমিলিয়ে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার বিশ্বরেকর্ড গড়া হয়নি নাঈমের। ১৯৫৮ সালে ১৬ বছর ৯ মাস ৩০ দিন বয়সে পাঁচ উইকেট নিয়ে এ রেকর্ড নিজের দখলে রেখেছেন পাকিস্তানের উসমান ঘানি। ১৭ বছর ১১ মাস ২০ দিন বয়সে এ তালিকার তিন নম্বরে উঠে নাঈম চারে পাঠিয়ে দিয়েছেন স্বদেশি এনামুল হক জুনিয়রকে। এনাম জুনিয়র পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন ১৮ বছর ৬ মাস ১ দিন বয়সে।

এতো চমত্কার রেকর্ডের দিনটাও অবশ্য ম্লান হয়ে যায় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে একেবারে আত্মসমর্পণ শুরু করেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান করা ইমরুল ফেরেন ২ রান করে। সৌম্য সরকার ১১ রান করে এবং মুমিনুল হক ১২ রান করে ফেরেন। এরপর মিঠুন ১৭ ও সাকিব মাত্র ১ রান করে ফেরেন। ফলে মাত্র ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। দিনশেষে উইকেটে ১১ রান নিয়ে আছেন শেষ ভরসা মুশফিকুর রহিম। তার সাথে আছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।