ত্রিশালে ৪২ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন শিক্ষকরা

আপডেট : ২২ মে ২০১৭, ০৮:৪২
 
ত্রিশালে আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ে জোড়পূর্বক ৪২ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিয়েছেন এক শিক্ষক। চুল কাটায় সহযোগিতা করেন বিদ্যালয়ের অপর ২ শিক্ষক। জানা যায়, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের সাউদকান্দা আর জি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমির হামজা ও অপর শিক্ষক মেজবাহ আলমের উপস্থিতিতে ৮ম শ্রেণির ৩ ছাত্রকে অফিস রুমে ডেকে সিগারেট খায় কি না, গাঁজা খায় কি না জিজ্ঞেস করে বলেন, কাল তোদের চুল কাটতে বলেছিলাম চুল কাটিসনি কেন। এসময় সহকারী প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা একটি কাচি নিয়ে শিক্ষক হাবিবুর রহমান অফিসে ৩ ছাত্রের মাথার সামনের চুল কেটে দেন।
 
এরপর শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সহকারী প্রধান শিক্ষক আমির হামজা ফরাজী ও মিজবাউল আলম প্রথমে ৮ম শ্রেণির কক্ষে, পরে ৯ম ও ৭ম শ্রেণির কক্ষে ঢুকে মোট ৪২ জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে কেন তাদের সন্তানদের এভাবে চুল কাটা হলো তার কারণ জানতে চান।
 
এদিকে আজ সোমবার আরজি উচ্চ বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীকারী দুটি প্যানেলের কর্মী সমর্থকদের এক গ্রুপ শিক্ষকদের পক্ষ নেয়, অপর গ্রুপ অভিভাবকদের পক্ষ নেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমদাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার সময় আমি বিদ্যালয়ে ছিলাম না, পরে এসে শুনেছি। বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার নুরুল আমিন কালাম জানান, আজ সোমবারের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য নির্বাচন। এই নির্বাচন বানচাল করতেই একটি চক্রের ইশারায় শিক্ষকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর