বাংলা
মো. মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক
গাইবান্ধা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয়, গাইবান্ধা
সুপ্রিয় নবম-দশম শ্রেণির নিশ্চয় তোমরা ভালো আছো। আজ তোমাদের বাংলা ১ম পত্রের গদ্যাংশ থেকে ‘পয়লা বৈশাখ’প্রবন্ধটি নিয়ে আলোচনা করবো। শিক্ষার্থী বন্ধুরা ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধটি লিখেছেন প্রাবন্ধিক কবীর চৌধুরী। তোমরা কিন্তু প্রবন্ধের নাম ও প্রাবন্ধিকের নামের বানান কোনোভাবেই ভুল করবে না। আবার প্রাবন্ধিককে লেখক বা কবি বলবে না; যিনি গল গুবা উপন্যাস লিখেন তাকে লেখক বলতে হবে। আলাদা করে গল্পকার বা ঔপন্যাসিকও বলা যায়। আর যিনি কবিতা লিখেন তাকে কবি বলবে। তেমনি প্রবন্ধের রচয়িতাকে প্রাবন্ধিক লিখবে।
প্রবন্ধের শুরুতেই প্রাবন্ধিক সব সংস্কৃতিতেই যে নববর্ষ উদযাপনের প্রথা প্রচলিত আছে তার প্রমাণ দিতে টেনিসন ও রবীন্দ্রনাথের উক্তি তুলে ধরেছেন। এক্ষেত্রে টেনিসন পয়লা জানুয়ারিকে ও রবীন্দ্রনাথ পয়লা বৈশাখকে উদ্দেশ্য করে লিখলেও কেন্দ্রীয় ভাবটি উভয় ক্ষেত্রে একই। বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ বাঙালীর সর্বশ্রেষ্ঠ সাংস্কৃতিক উত্সব।
এবার আস বোডর্ পরীক্ষার কথায়। এখানে গদ্যাংশ থেকে মোট চারটি প্রশ্ন থাকবে; দুটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য অবশ্যই একটি করে উদ্দীপক দেয়া থাকবে। উদ্দীপকের আলোকে ক, খ, গ ও ঘ নামে চারটি প্রশ্ন দেয়া থাকবে। এক্ষেত্রে গ ও ঘ নং প্রশ্নে ভিন্নতা আনয়নের উদ্দেশ্যে উদ্দীপকে এক বা একাধিক অনুচ্ছেদ বা দৃশ্যকল্প ব্যবহূত হতে পারে। এবার একটি উদ্দীপকের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করছি।
দৃশ্যকল্প-১
কবিদের এক মহানরাজা রবীন্দ্রনাথ
তোমার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন কর জোড়ে
যা পুরানো শুষ্ক মরা, অদরকারি
কাল বোশেখের একটি ফুঁয়ে উড়িয়ে দিতে।
দৃশ্যকল্প-২
ধ্বংস যদি করবে তবে, শোনো তুফান
ধ্বংস করো বিভেদকারী পরগাছাদের
পরের শ্রমে গড়ছে যারা মস্ত দালান
বাড়তি তাদের বাহাদুরি গুড়িয়ে ফেলো
শিক্ষার্থী বন্ধুরা তোমরা নিশ্চয় জান ‘ক’ নং প্রশ্নটি জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য করা হয়। এখানে ‘ক’ নং প্রশ ্নহিসেবে যদি আমি-“বাঙালির এক অনন্য উত্সবের নাম লেখ।” এই প্রশ্নটি দেই; তাহলে তোমরা বুঝতেই পারছো ‘ক’-এ দেয়া প্রশ্নটির সংগে উদ্দীপকের কোনো সম্পর্ক নেই। এ প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে সরাসরি প্রবন্ধের ভেতরে যেতে হবে। কেননা প্রবন্ধে দেয়া আছে - পয়লা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ বাঙালির এক অনন্য উত্সব।
এবার খ নং প্রশ্নে আসি। ‘খ’ নং প্রশ্নটি বরাবরই উদ্দীপকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত থাকে না। এক্ষেত্রে প্রশ্নটির উত্তরের কিছু আভাস পাঠ্যবইয়ে দেয়া থাকে; যা অনুধাবন করে তোমাদের লিখতে হবে। এবার খ নং প্রশ্নে যদি বলি-“ধর্মনিরপেক্ষ চেতনা বলতে কী বোঝানো হয়েছে? বর্ণনা কর।” এ প্রশ্নের উত্তরে ভালো নম্বর পেতে হলে তোমাদের অবশ্যই এ কথা অনুধাবন করতে হবে যে, বাংলা নববর্ষের যে উত্সবতা শুধু হিন্দুর বা মুসলমানদের কিংবা বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের নয়-এ উত্সব সমগ্র বাঙালির। এখানে ধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে একাকার হয়ে আজ বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখকে উদযাপন করছে। এ কথাগুলো অবশ্যই বর্ণনায় লিখবে; তবেই পূর্ণ নম্বর।
এবার আসি প্রয়োগমূলক প্রশ্নে। ‘গ’ নং প্রশ্নে যদি দেয়া যায়-“দৃশ্যকল্প-১ এর সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’প্রবন্ধের মিল বা অমিলের পক্ষে যুক্তি দাও।”তাহলেএ প্রশ্নের পরিপূর্ণ উত্তরের জন্য তোমাদের দৃশ্যকল্প-১টি ভালোভাবে কয়েকবার পড়ে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের যে দিকটির সাথে মিল আছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আর যদি মিলের চেয়ে অমিলের দিকটিই বেশী হয় তাহলে তুমি এর পক্ষে অবস্থান নিতে পারো। প্রয়োগের ক্ষেত্রে তোমরা অবশ্যই পাঠ্যবইয়ের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনাটি প্রথমে তুলে ধরবে; এরপর উদ্দীপকের সঙ্গে তুলনা করে যথাযথ প্রয়োগ ঘটাবে।
‘গ’ নং প্রশ্নে বরাদ্দকৃত নম্বর ৩। এখানে ৩ এ ৩ পেতে হলে তোমাকে অবশ্যই জ্ঞানের উত্তর দিতে হবে। এখানে উদ্দীপকের সাথে ‘পয়লা বৈশাখ’ প্রবন্ধের মিল রয়েছে। কেননা উদ্দীপকে পুরানো শুষ্ক, মরা, অদরকারি সবকিছুকে কাল বোশেখের একটি ফুয়ে উড়ে দেয়ার আহ্বান রয়েছে; যা প্রবন্ধের আলোচনাতেও বিদ্যমান। এখানে বিশদ বর্ণনায় উদ্দীপকের সাথে প্রবন্ধের যে অংশটির মিল রয়েছে তার সাথে সমন্বয় করে উত্তর দেয়াই তোমার মুল কাজ।ধী
