রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভার আজ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাভার হয়ে উঠেছে ঢাকা শহরের বর্জ্যরে ভাগাড়। ক্রমাগত কেমিক্যাল মিশ্রিত কল-কারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, নদী খাল দখল করে বাড়িঘর মিল কারখানা, বিনোদন কেন্দ্র ও হাউজিং প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছে এ অঞ্চলে। দূষণ ও দখলের ফলে নদী ও খাল আজ মৃতপ্রায়।যতটুকু আছে তার পানিও ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
বুধবার ‘পরিবেশ দূষণে বিপর্যস্ত সাভার-উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেনানিবাসে গলফ ক্লাবে গলফ হাউজ মিলনায়তনে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।
বক্তারা বলেন, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী সভার উপশহরের চতুর্দিকের তুরাগ, বংশী, ধলেশ্বরী বুড়িগঙ্গা, গাজীখালী নদী ও ১৪টি খাল বহমান। এগুলো আজ কেবলই স্মৃতি। নদী খালের রূপ শুধুই ভূমি অফিসের কাগজপত্রে আছে, বাস্তবে নেই। ৩০০ ফুট খাল এখন ১০ ফুট এ পরিণত হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সাভার অচিরেই পুরোপুরি দূষণের নগরীতে পরিণত হবে।
আরো প্রতিনিধি: নারীকণ্ঠ করে ফেসবুকে প্রতারণা, আটক তিন যুবক
সভায় বক্তারা বলেন, ডিইপিজেড, চামড়া শিল্প নগরী, বিভিন্ন মিল কারখানার নির্গত বর্জ্য ইটভাটার কালো ধোঁয়া এ এলাকার পরিবেশকে বিষময় করে তুলেছে। বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি নদী খাল-বিলে ফেলা হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে পাঁচ হাজার একর কৃষি জমি আজ হুমকির মুখে। মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির পথে। বিষাক্ত বর্জ্যে মাছ মরে ভেসে উঠছে। মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সাভার অঞ্চলের পরিবেশ ও জনজীবন ভয়ংকর পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে অসাধারণ উন্নয়ন হচ্ছে। এ উন্নয়ন ধরে রাখতে হলে টেকসই উন্নয়ন হতে হবে। আর টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পরিবেশকে প্রাধান্য দিতে হবে।
বেলার নির্বাহী প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ঢাকার সাভারে অপরিকল্পিতভাবে ডাম্পিং স্টেশন, ইপিজেডসহ অসংখ্য মিল কারখানা, ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। কারখানাগুলোতে ইটিপি থাকলেও তা চালু থাকে না।
সাভারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত শাহনাজ বেগম, নাসির উদ্দিন পিন্টু, শামসুন্নাহার, নূরুল ইসলাম মল্লিক, আব্দুল হালিমসহ অনেক ভুক্তভোগী তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। অনেকেই বলেন, ট্যানারির ঝাঁঝালো গন্ধে ঘরের টিন পর্যন্ত ফুটো হয়ে গেছে। নদী ও বিলের মাছ রান্না করলে তাতে কেমিক্যালের গন্ধ পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
