ফোর্বস সেরা উদ্ভাবকদের তালিকায় পাঠাও-এর ইলিয়াস

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০১৯, ২০:৫২

মাহবুব শরীফ

 

অনূর্ধ্ব ৩০ বছর মধ্যবয়সী এশিয়ার সেরা ৩০ উদ্ভাবকের তালিকা প্রকাশ করেছে বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। এ তালিকার জন্য তার এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক হাজার উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে ১০ ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ৩০০ জনকে  এ তালিকায় স্থান দিয়েছে। এ তালিকায় নাম করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রযুক্তিভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাও এর সহ প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন এম ইলিয়াস । তরুণ ও সফল উদ্যোক্তাদের তালিকা তৈরি করতে ২৩টি দেশের মধ্যে সমীক্ষা চালায় ফোর্বস। এ তালিকায় প্রথমবারের মতো মঙ্গোলিয়া, কাজাকিস্তান ও লাওস স্থান পাওয়াতে ২০১৯ সালের তালিকাটি একটু বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠেছে। এটি হলো ফোর্বস কর্তৃক চতুর্থ অনূর্ধ্ব ৩০ এর সেরা উদ্ভাবকের তালিকা।

যদি আপনি অল্প সময়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করতে চান তাহলে আপনি আবার ভাবুন। এ বছর যারা ফোর্বস এর তালিকায় স্থান পেয়েছে তারা শুধু আঞ্চলিক পরিবর্তনই করছে না উন্নয়নশীল ও উদীয়মান বাজারে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও করছে।

হুসাইন এম ইলিয়াস গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘পাঠাও মাত্র তিন বছর আগে চালু হয়েছে। পাঠাওয়ের সফলতার পেছনে আছে দলগত চেষ্টা। প্রযুক্তি দিয়ে যে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা যায়, তা পাঠাওয়ের মাধ্যমে দেখানো সম্ভব হয়েছে।’

বাংলাদেশে অনেক উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্য থেকে পাঠাওকে কী কারণে বাছাই করল ফোর্বস?  এমন প্রশ্নের জবাবে ইলিয়াস বলেন,‘পাঠাও অল্প সময়ের মধ্যে নাগরিক সমস্যার যে সমাধান দিয়েছে তা হয়ত কেউ দিতে পারেনি। শুধু তাই নয়, দেশের বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়াও আমাদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করেছে। সমস্যার সমাধান তো অনেকেই অনেকভাবে করে তবে দীর্ঘস্থায়ী সমাধান একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এবং পাঠাও সেটি করতে পেরেছে।’

সদ্য প্রকাশিত ফোর্বস এর তালিকাটি করা হয়েছে অনূর্ধ্ব ৩০ বছরের উদ্যোক্তাদের নিয়ে। দেশে প্রচুর তরুণ উদ্যোক্তা রয়েছে যারা দুই-একটি প্রজেক্ট হাতে নিয়ে ব্যর্থ হলে আর অগ্রসর হতে চায় না। তাদের উদ্দেশে ইলিয়াস বলেন, ‘প্রতিটি কাজে বাধা থাকবেই। বাধা অতিক্রম করে সামনে এগুতে পারলেইতো আপনি সফল। যদি আপনি বাধা অতিক্রম করতে না পারেন তাহলে আপনি আগেই হেরে গেলেন। পাঠাও একটি মাত্র প্রকল্প নিয়ে সফলতার মুখ দেখেনি। আমাদের আরো অনেকগুলো প্রকল্প ছিল। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে আমরা সফলতার মুখ দেখতে পারিনি। বর্তমানে পাঠাও একটি সুরক্ষিত প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে।’

প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদের সেক্টরে আরো ভালো হচ্ছে। কিছু কিছু সময় তাদের সেক্টরে উদ্ভাবনী কাজের বাধাগুলো দূর করতে উদ্ভাবনী সমাধান ব্যবহার করা হচ্ছে।

ফোর্বস বলছে, তারা এই সামাজিক উদ্যোক্তা খুঁজতে গিয়ে এত এত সব কাজ পেয়েছে যা বাস্তবায়ন করতে পারলে এই তরুণরা বিশ্বকে বদলে দিতে পারবে। তাদের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কিছু তাদের উদ্যোক্তা খোঁজার নীতিমালায় না পড়ায় তাদেরকে জায়গা করে দিতে পারেননি। এসব উদ্যোগের মধ্যে বেশিরভাগই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খাবার, এনার্জি সম্পর্কিত শিল্প। এছাড়াও বেশকিছু উদ্যোক্তা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো সমাধানে কাজ করেছেন।  এর বাইরে বড় একটি খাত হিসেবে স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্যোগও নিয়েছেন অনেকেই।

ফোর্বস গত মঙ্গলবার এই তালিকা প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয় ভোক্তা প্রযুক্তি  বিভাগে রয়েছে ইলিয়াসের নাম।

হুসাইন এম ইলিয়াস সম্পর্কে ফোর্বস-এ লেখা হয়েছে, তিনি সিফাত আদনানকে (বয়স ৩০ বছরের বেশি) সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের শীর্ষ রাইড শেয়ারিং, চাহিদামাফিক মালপত্র পৌঁছে দেওয়া এবং খাবার সরবরাহের অ্যাপভিত্তিক সেবা পাঠাও প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশের পাঁচটি শহরে এবং নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা দিচ্ছে এই ‘সুপার অ্যাপ’।